collected
নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হাতে পাওয়ার দাবি করে শত্রুদের বিরুদ্ধে আগাম হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর সাবেক জ্যেষ্ঠ সেনাপতি মোহসেন রেজাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা জানান।
মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এপি জানায়, রেজাই ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার কথা তুলে ধরে দাবি করেছেন, একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে এই সক্ষমতার ‘পরীক্ষা’ করা হয়েছে। তবে ওই পরীক্ষায় নতুন ‘কাসেম বাসির’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাতে এপি জানায়, সলিড-ফুয়েলচালিত ‘কাসেম বাসির’ ক্ষেপণাস্ত্র বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর হাতে এসেছে। ইরানের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা অন্তত ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার এবং আগের কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এর নির্ভুলতা বেশি।
রেজাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান এখন শুধু প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থাকবে না। কোনো পক্ষ হামলার হুমকি দিলে তা বাস্তবায়নের আগেই আগাম হামলা চালানোর নীতি গ্রহণ করছে তেহরান।
সম্প্রতি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তাদের যুদ্ধজাহাজগুলো হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। এর জবাবে ইরানের কয়েকটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
এদিকে হরমুজ প্রণালী নিয়েও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। ইরান প্রণালীতে ‘সীমিত চলাচল’ এলাকা তৈরির ঘোষণা দিলেও যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রয়েছে এবং সেখানে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে মার্কিন নৌবাহিনী।
ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ ইবনে রেজাও দাবি করেছেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালানোর মতো প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতা ইরানের রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ইরানের আগাম হামলার হুঁশিয়ারি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।