collected
দেশে ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের কোনো রেজিস্ট্রেশন দেওয়া না হলেও সিঙ্গেল-ডেকার বাস কিনে পরবর্তীতে অনুমোদন ছাড়াই বডি পরিবর্তন করে ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসে রূপান্তরের ঘটনা ঘটছে। এমন রূপান্তর করা ৪১টি বাসের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
হাইকোর্ট বিভাগের একটি রিট পিটিশনের নির্দেশনার পর বিআরটিএ গঠিত তিন সদস্যের কারিগরি কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি বিআরটিএর ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
হাইকোর্টের নির্দেশে কমিটি
অননুমোদিত স্লিপার এসি বাস চলাচলের বৈধতা নিয়ে ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খান হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে একই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি আদালত রুল জারি করেন।
পরবর্তী সময়ে রিটকারী একটি আবেদন করলে আদালত ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য তিন সদস্যের একটি স্বাধীন কারিগরি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর বিআরটিএ তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে।
বিআরটিএ পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহকে কমিটির প্রধান করা হয়। সদস্য হিসেবে ছিলেন উপপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) এ. এস. এম কামরুল হাসান এবং সদস্য সচিব ছিলেন সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মঈনুল ইসলাম।
নিরাপত্তা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া পর্যালোচনা
কমিটিকে বিআরটিএ অনুমোদিত ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের সংখ্যা নির্ধারণ, অননুমোদিত স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা পর্যালোচনা এবং অনুমোদিত বাস থাকলে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়ে সুপারিশ করতে বলা হয়।
এ ছাড়া কমিটি ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করেছে। এসব বাসের অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি রয়েছে কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হয়েছে।
উন্নত দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য জাতীয় পর্যায়ে গাইডলাইন বা নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়েও কমিটি পর্যালোচনা করেছে। এর লক্ষ্য হিসেবে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আরামদায়ক ভ্রমণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।