collected
দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মৈত্রী, মিতালী ও বন্ধন এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী অক্টোবরের মধ্যেই তিনটি আন্তদেশীয় ট্রেনের চলাচল স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা রয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় শুরু হওয়া দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বন্ধ হয়ে যাওয়া আন্তদেশীয় রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু করাই এবারের বৈঠকের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মৈত্রী, মিতালী ও বন্ধন এক্সপ্রেসের চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। এরপর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এসব ট্রেনের যাত্রীসেবা বন্ধ রয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এবারের বৈঠকে দুই দেশের রেল কর্মকর্তারা আন্তদেশীয় যাত্রী পরিবহন পুনরায় চালুর পাশাপাশি নতুন রুট চালুর বিষয়েও আলোচনা করবেন।
এ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সোমবার বলেন, দুই দেশ শুধু সীমান্ত ভাগাভাগি করে না, স্বপ্নও ভাগাভাগি করে। তিনি মানুষে মানুষে যোগাযোগকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ধারা দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের বৈঠকে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে রাজশাহী থেকে কলকাতা পর্যন্ত একটি নতুন আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে।
এ ছাড়া মৈত্রী এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তনের বিষয়েও বাংলাদেশের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে যমুনা সেতু হয়ে চলাচল করা ট্রেনটি ভবিষ্যতে পদ্মা সেতু ব্যবহার করে ঢাকা-কলকাতা রুটে পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। এতে যাত্রীদের যাতায়াতের সময় ও ব্যয় কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
উল্লেখ্য, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পরও মৈত্রী এক্সপ্রেসকে এ রুটে পরিচালনা করা হয়নি। এবার রুট পরিবর্তনের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-কলকাতা আন্তদেশীয় রেল যোগাযোগে নতুন গতি আসতে পারে।