প্রায় ৭ কোটি টাকার সেতু পড়ে আছে দেড় বছর, নেই সংযোগ সড়ক

Pinky Saha Pinky Saha ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:১৮ PM BST বরিশাল ২১ বার পঠিত
প্রায় ৭ কোটি টাকার সেতু পড়ে আছে দেড় বছর, নেই সংযোগ সড়ক

জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে আটকে গেছে সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ। ভোগান্তি পোহাচ্ছে স্থানীয় মানুষ।

  • বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু সংযোগ সড়কের অভাবে দেড় বছর ধরে পড়ে আছে। উত্তর ধামুরা খালের ওপর নির্মিত সেতুটির মূল কাজ শেষ হলেও জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে সেতুটি দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এতে আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
  • স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশল শাখা সূত্রে জানা যায়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে গ্রামীণ সেতু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় উত্তর ধামুরা খালের ওপর ৪৪ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুটির চুক্তিমূল্য ৬ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা।
  • ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এমএস বসুন্ধরা ও সুপ্তি নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজটি বাস্তবায়ন করে। মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। তবে এরপর দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও সংযোগ সড়ক তৈরি না হওয়ায় সেতুটি এখনো যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা যায়নি।
  • সংযোগ সড়কটি নির্মিত হলে ধামুরা-শোলক-বাটাজোর সড়কের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হওয়ার কথা। এতে আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্মপুর, উজিরপুরের শোলক ও বামরাইল এবং গৌরনদীর মাহিলারা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি প্রায় এক লাখ মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় সুবিধা হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
  • শোলক ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সান্টু মোল্লা বলেন, সেতুটি চালু হলে দুই পারের অন্তত এক লাখ মানুষের সড়ক যোগাযোগের ভোগান্তি কমবে। বর্তমানে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি মানুষের প্রয়োজন মেটাতে পারছে না।
  • এলজিইডি সূত্র বলছে, অনুমোদিত নকশায় সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক রাখা হয়েছিল। কিন্তু জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতার কারণে কাজটি আটকে গেছে। উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় জানান, সেতুর ঢাল নামানোর জন্য প্রায় ৩৪ ফুট খাসজমি রয়েছে। ওই জমির ব্যবহার নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের বিরোধের কারণে সংযোগ সড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে।
  • প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের দাবি, প্রকল্প গ্রহণের আগে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি ও স্থানীয় ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জমির মালিকানা যাচাই করা হয়েছিল। এরপর নকশা অনুমোদন নিয়ে দরপত্রের মাধ্যমে সেতুর নির্মাণকাজ করা হয়। বর্তমানে কিছু মানুষের ‘অযৌক্তিক বাধার’ কারণে সংযোগ সড়কের কাজ এগোতে পারছে না।
  • তবে জমির মালিকানা নিয়ে আপত্তি জানানো স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রব হাওলাদারের বক্তব্য ভিন্ন। উত্তর ধামুরা অংশে সেতুর পূর্ব পাশে দুই শতক জমির মালিকানা দাবি করে তিনি বলেন, এসএ খতিয়ান অনুযায়ী ওই জমির মালিক তিনি। সেতু নির্মাণের সময় তাঁর জমির ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি আপত্তি জানান। প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ বা ক্ষতিপূরণ না দিয়ে জমি ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
  • জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পাশাপাশি উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান আবদুর রব।
  • ৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে উত্তর ধামুরা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির পূর্ব প্রান্তে কাঠের সিঁড়ি দিয়ে পথচারীরা সেতুর ওপর উঠছেন। পশ্চিম প্রান্তে বালু ফেলে রাখা হয়েছে। সেতুর ওপর ইটের স্তূপও দেখা যায়। সংযোগ সড়ক না থাকায় কোনো যানবাহন সেতুটি ব্যবহার করতে পারছে না।
  • স্থানীয় পথচারী মনির হোসেন বলেন, সংযোগ সড়ক না থাকায় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে ভোগান্তি হচ্ছে। সেতুটি নির্মাণ হলেও তা ব্যবহার করতে না পারায় প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছেন না স্থানীয় মানুষ।
  • এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর মণ্ডল জানান, এলজিইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমান বিএস জরিপে ওই জমি সড়কের নামে রেকর্ড ও নকশা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।
  • এদিকে প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু সংযোগ সড়কের অভাবে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) উজিরপুর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, জনগণের সুবিধার জন্য এত টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু দেড় বছরেও চালু না হওয়া দুঃখজনক। জমি নিয়ে জটিলতা দ্রুত সমাধান করে সেতুটি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT রবি আজিয়াটা লিমিটেড
বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ
শেয়ার করুন: