প্রধান বিচারপতি ও বার সভাপতির বাগবিতণ্ডা, এজলাস ছাড়লেন আপিল বিভাগের বিচারপতিরা

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:০৫ PM BST ১৬ বার পঠিত
প্রধান বিচারপতি ও বার সভাপতির বাগবিতণ্ডা, এজলাস ছাড়লেন আপিল বিভাগের বিচারপতিরা

Picture : Internet

তথ্য গোপনের অভিযোগে এক আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করাকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির সময় এ ঘটনা ঘটে। শুনানির একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ করে ব্যারিস্টার খোকন বলেন, ‘আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর থেকে আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।’

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT রবি আজিয়াটা লিমিটেড

এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতি ও বার সভাপতি তর্কে জড়িয়ে পড়েন। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করেন।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, এক আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি প্রধান বিচারপতির কাছে বিনয়ের সঙ্গে ওই জরিমানা মওকুফের আবেদন করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, একজন জুনিয়র আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা অনেক বেশি।

বার সভাপতি বলেন, আগে আপিল বিভাগে একাধিক বেঞ্চে মামলার শুনানি হতো। বর্তমানে একটি বেঞ্চ থাকায় মামলা শুনানির সুযোগ কমে গেছে বলে তিনি মনে করেন। কোনো মামলায় স্থগিতাদেশ দেওয়া হলে তা দীর্ঘ সময় বহাল থাকছে এবং অনেক ক্ষেত্রে পরবর্তী শুনানির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আইনজীবীদের পক্ষে তাঁদের সমস্যাগুলো তুলে ধরা এবং প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করা তাঁর দায়িত্ব। আইনজীবীদের মামলা পরিচালনার সুযোগ কমে যাওয়ায় তাঁদের আয়ও কমেছে—এটি বাস্তব পরিস্থিতি হিসেবে তিনি প্রধান বিচারপতির কাছে তুলে ধরেছেন বলে জানান।

উল্লেখ্য, নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগ সংক্রান্ত একই ঘটনায় একাধিক রিট মামলা করায় তথ্য গোপন ও প্রতারণার অভিযোগে রিটকারী মো. নুর আলম এবং তাঁর আইনজীবী সুফিয়া আহামেদকে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন আপিল বিভাগ। জরিমানার অর্থ ৩০ দিনের মধ্যে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নুর আলমের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মাহাবুব উদ্দিন খোকন। অপর নিকাহ রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান মুরাদের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অনীক আর হক, সিনিয়র আইনজীবী মো. শিশির মনির এবং আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ
শেয়ার করুন: