collected
উঁচু-নিচু সরু সড়ক, যানবাহন চলাচলেরও তেমন সুযোগ নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানা জানতে চাইলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ মেলে। কিছুক্ষণ হাঁটার পর একটি ভবন দেখিয়ে বলা হয়, ‘এটাই বিশ্ববিদ্যালয়’।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ভাড়া করা অস্থায়ী ক্যাম্পাসে চলছে ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি বাংলাদেশের (ইউএফটিবি) শিক্ষা কার্যক্রম। তিনতলা নির্মাণাধীন ভবনটি বাইরে থেকে দেখে বিশ্ববিদ্যালয় ভবন বলে বোঝার উপায় নেই। অথচ এখানেই সাইবার সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ারিং, ডেটা সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো প্রযুক্তিনির্ভর বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রমের একটি অংশ চলে ক্যাম্পাস থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরের আরেকটি ভাড়া ভবনে। মাঝামাঝি একটি পৃথক ভাড়া ভবনে চলছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। অর্থাৎ ছোট তিনটি ভবনে সীমিত অবকাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে প্রযুক্তি খাতের বিশেষায়িত এই বিশ্ববিদ্যালয়।
ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, শুধু ইউএফটিবি নয়, দেশে মোট ২৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই। এর মধ্যে পাঁচটিতে এখনো শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে উপাচার্য নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি চলছে।
শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছে। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মধ্যে। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই দুই থেকে সাতটি বিভাগ নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
এর মধ্যে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি এবং চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে সরাসরি শিক্ষার্থী পড়ানো হয় না। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন মাদ্রাসা, কলেজ ও মেডিকেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। কার্যক্রম চালু থাকা অন্য ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা আট হাজারের কিছু বেশি।
এদিকে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের পর শিক্ষা কার্যক্রম চালুর প্রক্রিয়া চলছে।
নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দুটি বিভাগ খোলার অনুমোদন পায়। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ওই দুই বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে অস্থায়ী ব্যবস্থায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কার্যক্রমও সম্প্রতি শুরু হয়েছে।
স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় ভাড়া বাবদ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিয়মিত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে ভ্যাট ও কর বাদে প্রায় ৮ লাখ ২১ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।
স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে ধীরগতি
ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প নিয়েছে। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমীক্ষা শেষ হয়েছে, আবার কয়েকটির নির্মাণকাজও চলছে।
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য এখনো ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হয়নি। প্রায় ২৫০ একর জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) উপস্থাপন করা হলেও অনুমোদনের পরিবর্তে কিছু পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়। বর্তমানে অস্থায়ী ক্যাম্পাসের আশপাশের দৌলতপুর ও খালিশপুর এলাকায় স্থায়ী ক্যাম্পাস করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।
২০১৫ সালের ৫ জুলাই খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয়। পরে ২০১৮ সালে প্রথম উপাচার্য নিয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
অন্যদিকে ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। নেত্রকোনার রাজুরবাজার এলাকায় প্রায় ৫০০ একর জমিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রশাসনিক কার্যক্রম এখনো অস্থায়ী ক্যাম্পাসে পরিচালিত হচ্ছে। দুটি বিভাগের কার্যক্রমও সেখানে চলছে। তবে অন্যান্য বিভাগ সম্প্রতি স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা হয়েছে।
চারটি অনুষদের ১০টি বিভাগ নিয়ে পরিচালিত নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী প্রায় এক হাজার। ফলে নতুন এসব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দ্রুত স্থায়ী ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা না গেলে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ব্যয় ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে।