ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ, ভাঙবে কি ব্যর্থতার বৃত্ত?

Pinky Saha Pinky Saha ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৮ AM BST ১০ বার পঠিত
ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ, ভাঙবে কি ব্যর্থতার বৃত্ত?

ছবি: সংগৃহীত

নারী এশিয়া কাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের গল্পটা যেন বারবার একই জায়গায় ফিরে আসছে। গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার কাছে হার, এরপর রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হওয়া—গত আসরের সঙ্গে এবারের চিত্রও অনেকটাই মিলে যাচ্ছে। পার্থক্য শুধু এবার গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স আরও বেশি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

আজ দুবাইয়ে নারী এশিয়া কাপের প্রথম সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT রবি আজিয়াটা লিমিটেড

২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নারী এশিয়া কাপে সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ১০ উইকেটে হেরে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়েছিল বাংলাদেশের। এবারও সেই ভারতই সামনে। তবে সেবারের তুলনায় এবার বাংলাদেশের প্রস্তুতি কিংবা পারফরম্যান্স খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়।

গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হার দিয়ে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের পথচলা। পরের দুই ম্যাচে জয় এলেও পারফরম্যান্সে ছিল না স্বস্তি। প্রথমবার এশিয়া কাপ খেলতে আসা ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ১২৯ রান করেও ৮ উইকেট হারিয়ে জয় পেতে হয়েছে বাংলাদেশকে। আর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ১০০ রান করাটাই কঠিন হয়ে পড়েছিল।

সব মিলিয়ে এবারের এশিয়া কাপে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম ব্যাটিং। ব্যাটারদের রান করতে সংগ্রাম করতে হচ্ছে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই। শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে লড়াই কঠিন হয়ে পড়বে।

তবে কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়েও আত্মবিশ্বাস হারাতে রাজি নন বাংলাদেশের ব্যাটার শারমিন আক্তার। আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভারতের বিপক্ষে খেলার চ্যালেঞ্জকে উপভোগ করতে চান বলে জানিয়েছেন।

শারমিন বলেন, ভারত এই টুর্নামেন্টের শীর্ষ দল। চ্যাম্পিয়ন হতে হলে এ ধরনের দলের বিপক্ষে খেলতেই হবে। তাদের বিপক্ষে ম্যাচটিকে চাপ হিসেবে না দেখে উপভোগ করার কথাই জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের জন্য ভারতের বিপক্ষে লড়াইটা অবশ্য সবসময়ই কঠিন। এখন পর্যন্ত দুই দলের ২৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র তিনটিতে। তবে সেই তিন জয়ের মধ্যে দুটিতে ভারতের ব্যাটিংকে ১০২ ও ১০৯ রানের মধ্যে আটকে রেখেছিল বাংলাদেশ। ফলে এবারের ম্যাচেও বোলারদের পারফরম্যান্স বাংলাদেশের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে।

বিশেষ করে দুবাইয়ের কন্ডিশনে বাংলাদেশের স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। গ্রুপ পর্বে ইন্দোনেশিয়াকে মাত্র ৫৮ রানে অলআউট করা, শ্রীলঙ্কাকে ১১৫ রান তাড়া করতে নেমে ৬ উইকেট হারানো কিংবা আরব আমিরাতকে ৯ উইকেটে ৬৯ রানে আটকে রাখা—প্রতিটি ম্যাচেই বোলাররা বাংলাদেশের শক্তির জায়গা হয়ে উঠেছেন।

স্পিনারদের পাশাপাশি পেসার মারুফা আক্তারও এবারের টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকভাবে ভালো করছেন। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই ইনিংসের শুরুতে বল করতে এসে উইকেট নিয়েছেন তিনি। পেসারদের মধ্যে এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি উইকেটও রয়েছে তাঁর দখলে।

ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে থামাতে তাই মারুফার নতুন বলের স্পেল এবং বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের ওপরই থাকবে বড় দায়িত্ব। তাঁরা যদি ভারতীয় ব্যাটারদের শুরুতেই চাপে ফেলতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশের সামনে ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

২০১৮ সালের নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপ বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এরপর আর কোনো আসরে ফাইনালে উঠতে পারেনি তারা।

২০২২ সালে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে গ্রুপ পর্বেই থেমে গিয়েছিল বাংলাদেশের যাত্রা। থাইল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল। পরের আসরে ভারতের কাছে সেমিফাইনালে হার। এবারও একই প্রতিপক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ।

তবে এবারও ইতিহাস বদলের সুযোগ আছে। ব্যাটিং ব্যর্থতা যদি কাটিয়ে ওঠা যায় এবং বোলাররা নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দিতে পারেন, তাহলে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে অঘটন ঘটানো অসম্ভব নয়।

নারী ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম বড় সাফল্যের সাক্ষী ছিল যে এশিয়া কাপ, সেই টুর্নামেন্টেই এখন দীর্ঘদিন ধরে সাফল্যের খোঁজে দলটি। আজকের সেমিফাইনাল তাই শুধু ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, বাংলাদেশের ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙারও পরীক্ষা।

দুবাইয়ে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হবে সেই পরীক্ষা। এখন দেখার বিষয়, ভারতকে হারিয়ে সেই বৃত্ত ভাঙতে পারে কি না বাংলাদেশের মেয়েরা।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ
শেয়ার করুন: