ছবি: সংগৃহীত
ওয়ানডে অভিষেকেই ইতিহাস গড়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার জর্ডান হারমান। নামিবিয়ার বিপক্ষে ১৫০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ওয়ানডে অভিষেকে সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় ২০তম নামটি যুক্ত করেছেন এই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান। একই সঙ্গে অভিষেকে সর্বোচ্চ ইনিংসের বিশ্ব রেকর্ডও ছুঁয়েছেন তিনি। এর আগে ২০২৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকারই ম্যাথু ব্রিটজকে অভিষেকে ১৫০ রান করে এই রেকর্ড গড়েছিলেন।
হারমানের ১২৬ বলের ইনিংসে ছিল ১৭টি চার ও ৩টি ছক্কা। ফলে ওয়ানডে অভিষেকে সর্বোচ্চ চার মারার রেকর্ডও এখন তাঁর দখলে। এর আগে ১৯৭৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডেসমন্ড হেইন্স অভিষেকে ১৪৮ রানের ইনিংসে ১৬টি চার মেরেছিলেন।
ওয়ানডে ইতিহাসে অভিষেকেই সেঞ্চুরি করার প্রথম ব্যাটসম্যান ছিলেন ইংল্যান্ডের ডেনিস অ্যামিস। ১৯৭২ সালের ২৪ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ১০৩ রান করেছিলেন তিনি। ওয়ানডের প্রথম দুটি সেঞ্চুরিই ছিল অ্যামিসের ব্যাট থেকে। এরপর ১৯৭৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৪৮ রান করে দীর্ঘদিন অভিষেকে সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড ধরে রাখেন ডেসমন্ড হেইন্স।
অভিষেকে সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৫ হাজারের বেশি রান করেছেন মাত্র তিনজন—হেইন্স, অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার ও মার্টিন গাপটিল। এ তালিকায় সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে সেঞ্চুরি করেছেন গাপটিল, তাঁর আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সেঞ্চুরি ১৮টি।
দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে হারমান হলেন অভিষেকে সেঞ্চুরি করা পঞ্চম খেলোয়াড়। এ তালিকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তিনজন পাকিস্তানের। প্রতিপক্ষ হিসেবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই সবচেয়ে বেশি চারটি অভিষেক সেঞ্চুরি হয়েছে।
অভিষেক সেঞ্চুরিয়ানদের তালিকায় দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি রয়েছে হংকং ও স্কটল্যান্ডের ব্যাটসম্যানও। হংকংয়ের মার্ক চ্যাপম্যান ২০১৫ সালে আরব আমিরাতের বিপক্ষে এবং স্কটল্যান্ডের মাইকেল ইংলিশ ২০২৪ সালে নামিবিয়ার বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েন। পরে চ্যাপম্যান নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন।
ওয়ানডের প্রথম ৩৮ বছরে অভিষেকে সেঞ্চুরি হয়েছিল মাত্র চারটি। কিন্তু সর্বশেষ ১৭ বছরে এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে ১৬টি সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে অভিষেকে সর্বোচ্চ ইনিংস তাওহিদ হৃদয়ের—২০২৩ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিলেটে ৯২ রান।
হারমানের ১৫০ রানের ইনিংসে চার ও ছক্কা মিলিয়ে এসেছে ৮৬ রান। এই সংখ্যাতেও তিনি ছুঁয়েছেন আফগানিস্তানের রহমানউল্লাহ গুরবাজের রেকর্ড। সব মিলিয়ে ওয়ানডে অভিষেকেই হারমানের ১৫০ রানের ইনিংসটি রেকর্ডবুকে একাধিক নতুন সংযোজন করেছে।