ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিশ্বের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক নেতা। তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনযাপন, ব্যায়াম ও খাবারের অভ্যাস নিয়েও মানুষের আগ্রহ রয়েছে। ৭৩ বছর বয়সী এই রুশ নেতা নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের জন্য পরিচিত। তাঁর খাদ্যতালিকাতেও শৃঙ্খলার ছাপ রয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ে রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও অন্যান্য প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
পুতিনের দিনের অন্যতম নির্দিষ্ট অংশ হলো সকালের নাশতা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণত এক বাটি পোরিজ দিয়ে তিনি দিন শুরু করেন। এর সঙ্গে থাকে টভোরগ, যা পূর্ব ইউরোপে জনপ্রিয় এক ধরনের টাটকা পনির। এটি সাধারণত সামান্য মধুর সঙ্গে খেয়ে থাকেন তিনি।
নাশতায় কোয়েল পাখির কাঁচা ডিম খাওয়ার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর সঙ্গে বিটরুট ও হর্সর্যাডিশের তৈরি ঝাঁঝালো জুসও তাঁর খাদ্যতালিকায় থাকে বলে জানা যায়।
চিনি ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার পুতিন সাধারণত এড়িয়ে চলেন। মিষ্টির প্রয়োজন হলে মধুকে বেশি গুরুত্ব দেন। তবে আইসক্রিম তাঁর পছন্দের খাবারগুলোর একটি। মাঝে মাঝে তিনি আইসক্রিম খেলেও এটি নিয়মিত খাবারের অংশ নয় বলে জানা গেছে।
পুতিনের খাবারে সবজির উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। টমেটো, শসা ও বিভিন্ন ধরনের সালাদ তাঁর পছন্দের তালিকায় রয়েছে। মাংসের তুলনায় মাছ তাঁর বেশি পছন্দ বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে ল্যাম্ব বা খাসির মাংসও তাঁর পছন্দের খাবারের মধ্যে রয়েছে।
ভাত ও বাকউইটও পুতিনের পছন্দের খাবার। অন্যদিকে ওটসের প্রতি তাঁর তেমন আগ্রহ নেই বলে বিভিন্ন সময়ে জানা গেছে। সব মিলিয়ে তাঁর খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, শাকসবজি ও গাঁজন করা দুগ্ধজাত খাবারের উপস্থিতি বেশি।
কাজের ব্যস্ততার ওপর দুপুরের খাবারের পরিমাণ ও ধরনও পরিবর্তিত হয়। ব্যস্ত দিনে কখনো শুধু ফল কিংবা এক গ্লাস কেফির খেয়েই সময় কাটান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কেফির গাঁজন করা দুধের তৈরি একটি পানীয়।
পুতিনের খাদ্যাভ্যাসের আরেকটি আলোচিত বিষয় হলো রাতের খাবার। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি অনেক সময় রাতের খাবার এড়িয়ে চলেন অথবা সন্ধ্যার পর খাবারের পরিমাণ খুব সীমিত রাখেন। বিদেশ সফরের সময় অবশ্য স্থানীয় খাবার চেখে দেখেন তিনি। তবে সেখানেও খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন বলে জানা যায়।
খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম, সাঁতার এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ দৈনন্দিন রুটিনও পুতিনের জীবনযাপনের অংশ। তবে তাঁর ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস নিয়ে প্রকাশিত তথ্যের অনেকটাই বিভিন্ন সময়ের গণমাধ্যম প্রতিবেদন ও সাক্ষাৎকারনির্ভর; তাই এগুলোকে তাঁর বর্তমান প্রতিদিনের নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা হিসেবে দেখা উচিত নয়।