ছবি: সংগৃহীত
আর্থিক অনিয়ম ও ফিফার তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগে সাবেক দুই ফেডারেশন সভাপতিকে ফুটবলের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। শাস্তি পাওয়া দুজন হলেন মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ভিনসেন্ট ক্যাসেল এবং মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি বাসাম আদিল জলিল।
ফিফার বিবৃতি অনুযায়ী, প্রায় ৩০ বছর মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্বে থাকা ক্যাসেলের বিরুদ্ধে পদের অপব্যবহার, একাধিকবার স্বার্থের সংঘাত এবং ফিফা ও ফেডারেশনের তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করেন।
ক্যাসেল এর আগেও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। ২০১১ সালে ক্যারিবিয়ান ফুটবল কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার ঘটনায় তাঁকে ফিফার তৎকালীন স্বাধীন নৈতিকতা কমিটির বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। সে সময় কাতারের মোহাম্মদ বিন হাম্মাম ফিফা সভাপতি নির্বাচনে সেপ ব্ল্যাটারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ব্যর্থ হওয়ার সময় ক্যারিবিয়ান ফুটবল কর্মকর্তাদের ৪০ হাজার ডলার করে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
ক্যাসেলের পাশাপাশি তাঁর দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক তানদিকা হিউজকেও ফিফা ১৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে অনুপযুক্ত লেনদেন থেকে সুবিধা নেওয়া ও এতে সহায়তা, পদের অপব্যবহার এবং তহবিল তছরুপের অভিযোগ আনা হয়েছে। হিউজকে ১ লাখ ৮৪ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে। ক্যাসেলকে ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শারীরিক ও মানসিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করে এমন আচরণের অভিযোগও রয়েছে।
অন্যদিকে, মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি বাসাম আদিল জলিলের বিরুদ্ধে ফিফার কোভিড-১৯ ত্রাণ তহবিলের অর্থ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফিফার কাছ থেকে পাওয়া ১২ লাখ ডলার আত্মসাতের মামলায় আদালত তাঁকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। স্থানীয় ফুটবল ক্লাবগুলোর জন্য বরাদ্দ অর্থ দিয়ে ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক অর্থ পরিচালক মোহাম্মদ আকিলকেও ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। তাঁকে ১ লাখ ২৩ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। তহবিল অপব্যবহারের বিষয় গোপন করা ও এতে সহায়তা, ভুয়া নথি ব্যবহার এবং নৈতিকতা বিষয়ক তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনে সংকটের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফিফা সেখানে একটি জরুরি ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়োগ করে। ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘নজিরবিহীন সংকট ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থবিরতার’ কারণে সংস্থাটির দৈনন্দিন কার্যক্রম সরাসরি তদারকির এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।