Photo Collected
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে ক্রিস্টা গেইল পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। ৩০ সেপ্টেম্বর তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে ষষ্ঠ সার্কিট আপিল আদালত মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছিল। পরে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সেই স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে দণ্ড কার্যকরের পথ খুলে দেয়।
ক্রিস্টা পাইক ১৯৯৫ সালে সহপাঠী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। হত্যার সময় তাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর। প্রায় তিন দশক ধরে তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কারাগারে ছিলেন।
এর আগে টেনেসিতে বিষাক্ত ইনজেকশনের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাইকের আইনজীবীরা অবশ্য তাঁর মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের আবেদন করেছিলেন। তাঁরা যুক্তি দেন, শৈশব ও কৈশোরে যৌন নির্যাতন, অবহেলা ও নানা ধরনের সহিংসতার যে ইতিহাস পাইকের ছিল, তা তাঁর সাজা নির্ধারণের সময় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
শেষ মুহূর্তে ষষ্ঠ সার্কিট আপিল আদালত মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করে মামলাটি আরও পর্যালোচনার সুযোগ দেয়। আদালত বলেছিল, পাইকের আইনজীবীদের উত্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা ও নিষ্পত্তির জন্য আরও সময় প্রয়োজন। পরে টেনেসি কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করলে সর্বোচ্চ আদালত আপিল আদালতের স্থগিতাদেশ তুলে নেয়।
পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পদ্ধতি নিয়েও আগে বিতর্ক ছিল। তিনি বিষাক্ত ইনজেকশনের পরিবর্তে সম্পূর্ণ নারী সদস্যদের নিয়ে গঠিত ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আবেদন করেছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, ইনজেকশনের পদ্ধতি দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ শুরু হলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দুই দফা ওষুধ দেওয়ার পরও পাইকের মৃত্যুর লক্ষণ দেখা যায়নি। পরে তাঁর আইনজীবীরা আদালতে বিষয়টি তুলে ধরেন। রয়টার্স জানিয়েছে, এই ব্যর্থতার পর পাইককে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা টেনেসিতে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে, কারণ তিনি অঙ্গরাজ্যটির আধুনিক মৃত্যুদণ্ডের ইতিহাসে প্রায় দুই শতাব্দীর মধ্যে মৃত্যুদণ্ড পেতে যাওয়া প্রথম নারী ছিলেন। তবে ৩০ সেপ্টেম্বরের এই প্রচেষ্টার পরও তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি।