Photo Collected
নতুন চাকরি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলেন ক্রিস স্মলস। দীর্ঘদিন বেকার থাকার পর একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেয়ে আগের কর্মস্থলের তুলনায় বেশি বেতনও পাওয়ার সুযোগ হয়েছিল তার। কিন্তু অফিসে যোগ দেওয়ার মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই চাকরি হারাতে হয় তাকে। আর চাকরি হারানোর কারণ হিসেবে তাকে জানানো হয় ‘পরিচ্ছন্নতা ইস্যু’।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটানের বাসিন্দা ক্রিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে নিজের অভিজ্ঞতার কথা লিখে বিষয়টি জানান। তার পোস্টটি পরে অনলাইনে আলোচনার জন্ম দেয়।
ক্রিস জানান, প্রায় নয় মাস বেকার থাকার পর একটি টেম্প এজেন্সির মাধ্যমে নতুন চাকরি পান তিনি। চাকরিটি আগের কর্মস্থলের তুলনায় ভালো হওয়ায় নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়া নিয়ে বেশ আশাবাদী ছিলেন।
অফিসে যোগ দেওয়ার আগের রাতেও নিজের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন বলে জানান ক্রিস। তার ভাষ্য, তিনি ভালোভাবে গোসল করেন এবং সকালে নতুন কেনা একটি পোলো শার্ট পরে অফিসে যান। কর্মস্থলে পৌঁছানোর পর শুরুটাও স্বাভাবিক ছিল। সুপারভাইজার তাকে অফিস ঘুরিয়ে দেখান এবং আরেক সহকর্মী তার প্রশিক্ষণের দায়িত্ব নেন।
তবে প্রায় দুই ঘণ্টা পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ক্রিস জানান, সুপারভাইজার তাকে আগেভাগে মধ্যাহ্নভোজ সেরে নিতে বলেন। বিষয়টি তার কাছে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়। অফিস থেকে খাবারের জন্য বের হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ই কর্তৃপক্ষের ফোন আসে।
ফোনে তাকে জানানো হয়, তার চাকরি আর থাকছে না। হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চাইলে তাকে ‘পরিচ্ছন্নতা ইস্যু’র কথা বলা হয়।
ক্রিসের দাবি, অফিসে যোগ দেওয়ার আগে তিনি যথেষ্ট পরিচ্ছন্ন ছিলেন। এ বিষয়ে তাকে আগে কোনো সতর্কতাও দেওয়া হয়নি। এমনকি প্রতিষ্ঠান বা সুপারভাইজারের পক্ষ থেকেও তাকে এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা হয়নি বলে জানান তিনি।
তবে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ক্রিস জানান, তার প্যান্টে কিছু লোম লেগে ছিল। চাকরি হারানোর পেছনে এটিই সম্ভাব্য কারণ হতে পারে বলে তার ধারণা। এর বাইরে আর কোনো সম্ভাব্য কারণ খুঁজে পাননি তিনি।
রেডিট পোস্টে ক্রিস আরও জানান, তিনি বন্ধুদের কাছেও জানতে চেয়েছিলেন তার শরীর থেকে কোনো ধরনের দুর্গন্ধ আসছিল কি না। বন্ধুরা তাকে এমন কিছু হয়নি বলে জানিয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে রেডিটে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ ক্রিসের প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন এবং প্রথম দিনেই চাকরি হারানোর ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, ‘পরিচ্ছন্নতা ইস্যু’ হয়তো চাকরি বাতিলের আসল কারণ না-ও হতে পারে।
আবার কয়েকজন মন্তব্যকারী প্রশ্ন তুলেছেন, ক্রিস নিজে বুঝতে পারেননি—এমন কোনো পরিচ্ছন্নতাজনিত সমস্যা হয়তো কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছিল। তবে চাকরি বাতিলের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত বক্তব্য জানা যায়নি।