কিলিয়ান এমবাপ্পে
ফুটবলের মাঠে গোল করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন নতুন এক পরিচয়ে আলোচিত কিলিয়ান এমবাপ্পে—‘ডিক্টেটর এমবাপ্পে’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) তৈরি নানা ছবি ও ভিডিওতে কখনো সামরিক পোশাকে, কখনো সিংহাসনে বসা অবস্থায় তাঁকে ‘স্বৈরাচারী শাসক’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। মিমে এমনও দেখানো হচ্ছে, কোচ বরখাস্ত থেকে শুরু করে খেলোয়াড়কে ক্লাব ছাড়ানো—ফুটবলের সব সিদ্ধান্তই যেন তাঁর হাতে।
এমবাপ্পেকে ঘিরে এমন মিমের পেছনে ২০২৪ সালের একটি ঘটনাও ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হয়। সে সময় ফরাসি ইনফ্লুয়েন্সার ও কাবাবের দোকানের মালিক মোহাম্মদ হেন্নির একটি স্যান্ডউইচের বর্ণনায় এমবাপ্পের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল। এমবাপ্পের আইনজীবীরা নামটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানালে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক হাস্যরসের জন্ম দেয়। এরপর থেকেই এমবাপ্পেকে ‘সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়া’ চরিত্র হিসেবে দেখানোর প্রবণতা বাড়ে।
২০২২ সালে পিএসজির সঙ্গে নতুন চুক্তি করার পরও এমবাপ্পের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, খেলোয়াড় কেনাবেচা, কোচ ও ক্রীড়া পরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর প্রভাব থাকতে পারে। তবে এমবাপ্পে তখন জানিয়েছিলেন, তিনি একজন ফুটবলারের ভূমিকাতেই থাকতে চান।
রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর এবং ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ‘ডিক্টেটর এমবাপ্পে’ মিম আরও ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর নেতৃত্ব, সতীর্থদের সঙ্গে কথোপকথন কিংবা মাঠের সাধারণ ঘটনাকেও মজার ছলে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন সব সিদ্ধান্তই তাঁর নির্দেশে হচ্ছে।
ফ্রান্স ফুটবলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এবার এই মিম নিয়ে মুখ খুলেছেন এমবাপ্পে। বিষয়টির হাস্যরসাত্মক দিক তিনি বুঝতে পারলেও ইতিহাসের ভয়াবহ স্বৈরশাসকদের সঙ্গে তুলনা করাটা তাঁর কাছে অস্বস্তিকর বলে জানিয়েছেন। এমবাপ্পের ভাষায়, যারা মানুষ হত্যা করেছে এবং লাখো-কোটি মানুষকে দুর্ভোগে ফেলেছে, তাদের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে—‘আমি তো জীবনে এমন কিছু করিনি।’
তবে সতীর্থ উসমান দেম্বেলের দেওয়া ‘মোবুতু’ ডাক নিয়ে আপত্তি নেই এমবাপ্পের। সাবেক জায়ারের স্বৈরশাসক মোবুতু সেসে সেকোর নাম থেকে আসা এই ডাককে তিনি নিছক মজা হিসেবেই দেখছেন। দেম্বেলেকে নিয়ে হাসতে হাসতে এমবাপ্পে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেই এটি এসেছে এবং তাঁর সতীর্থ শুধু মজা করছেন।