গ্রিনল্যান্ডে ফের সামরিক ঘাঁটি খুলছে যুক্তরাষ্ট্র

Pinky Saha Pinky Saha ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:১৪ PM BST ২৮ বার পঠিত
গ্রিনল্যান্ডে ফের সামরিক ঘাঁটি খুলছে যুক্তরাষ্ট্র

Photo Collected

গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি দক্ষিণাঞ্চলের নাসারসুয়াকে শীতল যুদ্ধের সময়ের একটি সাবেক সামরিক ঘাঁটি পুনরায় চালু করার পাশাপাশি পূর্ব উপকূলের মেস্টারসভিগেও সামরিক উপস্থিতি গড়ে তুলতে যাচ্ছে। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে হতে যাওয়া নতুন নিরাপত্তা চুক্তির অংশ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাসারসুয়াকে ১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্লুই ওয়েস্ট ওয়ান’ সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর অঞ্চলটির জনসংখ্যা কমে কয়েক ডজনে নেমে আসে। অন্যদিকে মেস্টারসভিগে বর্তমানে ডেনমার্কের বিশেষ বাহিনীর ‘সিরিয়াস ডগ স্লেড প্যাট্রোল’ কার্যক্রম চালায়।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেনের বৈঠকের পর চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ এখনো প্রকাশ করা হয়নি এবং স্বাক্ষরের আগে এর কিছু বিষয় চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র সক্রিয় সামরিক স্থাপনা পিটুফিক স্পেস বেস। শীতল যুদ্ধের সময় দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক স্থাপনা এবং ১০ হাজারের বেশি সেনা ছিল। বর্তমানে পিটুফিক ঘাঁটিতে প্রায় ১৫০ মার্কিন সামরিক সদস্য রয়েছেন।

ডেনমার্কের ভাষ্য, নতুন চুক্তির ফলে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের ওপর নির্ভর করবে না; বরং বিষয়টি ন্যাটোর সম্মিলিত নজরদারি ও নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আসবে। ন্যাটোও চুক্তিটিকে আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।

গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের চাপের পর এ সমঝোতা হচ্ছে। এর আগে তিনি গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এবং প্রয়োজনে সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তাঁর এসব বক্তব্যের পর ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং ন্যাটোর মধ্যেও কূটনৈতিক সংকট দেখা দেয়।

তবে নতুন চুক্তি গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব পরিবর্তন করছে কি না, সে বিষয়ে ডেনমার্ক স্পষ্ট করেছে যে দ্বীপটির ওপর তাদের সার্বভৌমত্ব ও গ্রিনল্যান্ডের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বহাল থাকবে। একই সঙ্গে চুক্তিটি ১৯৫১ সালের যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে কোনো পরিবর্তন আনছে কি না, সেটিও এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: