গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে চুক্তি

Pinky Saha Pinky Saha ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৫৮ AM BST ৩১ বার পঠিত
গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে চুক্তি

Photo Collected

গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ঘোষণার অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ দেশগুলো সেখানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে পারবে না।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটনের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিপক্ষ গ্রিনল্যান্ডে সংবেদনশীল বিনিয়োগ করতে পারবে না। তিনি দাবি করেন, চুক্তিটির কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই এবং এটি অনির্দিষ্টকাল কার্যকর থাকবে।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে নিশ্চিত করেছে। তবে চুক্তিটির পূর্ণাঙ্গ লিখিত শর্ত বা সব বিস্তারিত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। বিশেষ করে নতুন কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুযোগ দেবে। একই সঙ্গে ন্যাটোর বাইরের প্রতিপক্ষ দেশগুলোর সেখানে ঘাঁটি স্থাপন বা নির্দিষ্ট ধরনের সংবেদনশীল বিনিয়োগের ওপর বিধিনিষেধ থাকবে। চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের দখলে নেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করছে না।

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। চলতি বছর তিনি একাধিকবার দ্বীপটির নিরাপত্তা ও কৌশলগত গুরুত্বের কথা বলেছেন এবং এর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। তবে নতুন চুক্তির ঘোষণায় গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ডেনমার্কের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের কোনো কথা নেই।

গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। দ্বীপটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রয়েছে, যা বর্তমানে পিতুফিক স্পেস ফোর্স বেস নামে পরিচিত। মার্কিন প্রতিরক্ষা কাঠামোয় ঘাঁটিটি আর্কটিক অঞ্চলের প্রাথমিক সতর্কীকরণ ও মহাকাশ-সংক্রান্ত কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ভিত্তি আরও পুরোনো। ১৯৫১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষা বিষয়ে একটি চুক্তি হয়েছিল। পরে ২০০৪ সালে ওই চুক্তি সংশোধন ও সম্প্রসারণ করা হয়। তাতে পিতুফিককে প্রতিরক্ষা এলাকা হিসেবে নির্ধারণ এবং মার্কিন সামরিক কার্যক্রম নিয়ে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয় উল্লেখ করা হয়।

নতুন চুক্তির বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগের সমাধান হবে এবং দ্বীপটি উত্তর আমেরিকার কৌশলগত প্রতিরক্ষাব্যবস্থার অংশ হিসেবে থাকবে।

চুক্তির বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ন্যাটোর বাইরের কোনো দেশ গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে পারবে না। একই সঙ্গে সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নির্দিষ্ট ধরনের সংবেদনশীল বিনিয়োগের সুযোগ থাকবে। তবে ‘সংবেদনশীল বিনিয়োগ’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ওই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ডে স্থায়ী প্রবেশাধিকার, ঘাঁটি স্থাপন এবং আকাশসীমা ব্যবহারের অধিকার দেবে। এমনকি ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ড স্বাধীন হলেও চুক্তির কিছু নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিধান কার্যকর থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে এসব শর্তের পূর্ণাঙ্গ আইনি কাঠামো এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ডের জনগণের প্রতিক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দ্বীপটিতে দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আলোচনা অতীতে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ ও বিরোধিতার জন্ম দিয়েছে। নতুন চুক্তির বিষয়ে সাধারণ গ্রিনল্যান্ডবাসীর অবস্থান এখনো বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি।

সব মিলিয়ে নতুন সমঝোতা গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা উদ্বেগের একটি নতুন কাঠামো তৈরি করছে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নতুন ঘাঁটি নির্মাণ, বিনিয়োগের সীমা এবং ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট নয়।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: