জরুরি অবস্থা জারির পর ‘নিখোঁজ’ খাইবার পাখতুনখাওয়ার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি

Pinky Saha Pinky Saha ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৯ AM BST ৬৬ বার পঠিত
জরুরি অবস্থা জারির পর ‘নিখোঁজ’ খাইবার পাখতুনখাওয়ার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি

Photo Collected

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির পর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) গুরুত্বপূর্ণ এই নেতাকে পুলিশ আটক করেছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। তবে তাঁকে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

গতকাল রোববার খাইবার পাখতুনখাওয়ার প্রাদেশিক সরকার ভেঙে দিয়ে সেখানে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারি করে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার। এর ফলে প্রদেশটিতে পিটিআই সরকারের কার্যক্রম কার্যত স্থগিত হয়ে গেছে। তবে দলটির দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপে প্রদেশের সমস্যার সমাধান হবে না।

জরুরি অবস্থা জারির কয়েক ঘণ্টা পর খাইবার পাখতুনখাওয়ার তথ্যমন্ত্রী শফি জান অভিযোগ করেন, পিটিআইয়ের লংমার্চ থেকে সোহেল আফ্রিদিকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। ওই সময় তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। পরে সংবাদমাধ্যম ডন পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর অবস্থান জানতে চাইলেও সাড়া পায়নি।

পিটিআইয়ের নেতা শহীদ খাট্টাক অভিযোগ করেন, সোহেল আফ্রিদির পাশাপাশি জাতীয় পরিষদের সদস্য জুনায়েদ আকবরসহ দলের আরও কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়েছে। এরপর তিনি নিজেই লংমার্চে নেতৃত্ব দেওয়ার ঘোষণা দেন। দলের মহাসচিব সালমান আকরাম রাজাও জানান, সোহেল আফ্রিদি কোথায় আছেন বা তাঁকে কী অবস্থায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

পিটিআই এক বিবৃতিতে নেতাদের আটকের অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং নির্বাচিত নেতৃত্ব ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছে। দলটির মুখপাত্র শেখ ওয়াকাস আকরাম বলেছেন, এ ঘটনাকে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির সিদ্ধান্ত থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। তিনি সোহেল আফ্রিদিসহ আটক নেতাদের দ্রুত ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাঁদের মধ্যে সোহেল আফ্রিদি রয়েছেন কি না, তা তিনি নিশ্চিত করেননি। যাঁদের বিরুদ্ধে আগের অপরাধের রেকর্ড নেই এবং যাঁরা পুলিশের তালিকাভুক্ত আসামি নন, তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের নেতা-কর্মীরা গত ৪ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখাওয়া থেকে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেন। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দলটির বিরোধের মধ্যে প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি এবং সোহেল আফ্রিদির অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: