Photo Collected
নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে মার্কিন ভোটারদের উদ্দেশে ২৫ পাতার একটি খোলাচিঠি প্রকাশ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)। চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতা করার পাশাপাশি কংগ্রেসে তাঁর সমর্থকদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। ইসরায়েলকে মার্কিন সমর্থন এবং বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতার কথাও বলা হয়েছে।
আইআরজিসির এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে ইরাক থেকে মার্কিন বাহিনীর সামরিক মিশন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’ শেষ করে। দুই দশকের বেশি সময় পর দেশটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির একটি বড় অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটেছে। ইরান এই প্রত্যাহারকে নিজেদের জন্য একটি সাফল্য হিসেবে দেখছে।
মার্কিন ভোটারদের উদ্দেশে প্রকাশিত চিঠিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতির পরিবর্তন হলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব। সংগঠনটি ট্রাম্পের ইরাননীতি, ইসরায়েলকে সমর্থন এবং বিদেশে মার্কিন সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছে। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি অবশ্য বলেছেন, এই চিঠি মার্কিন প্রশাসনের নীতিতে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনবে বলে তারা আশা করছে না; বরং মার্কিন ভোটারদের কাছে নিজেদের বক্তব্য পৌঁছে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।
চিঠিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যের সমালোচনা করা হয়েছে। আইআরজিসির দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ। একই সঙ্গে কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব নিয়েও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে সংগঠনটি। তবে এসব বক্তব্য ইরানের পক্ষের দাবি হিসেবে এসেছে; হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
এদিকে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হচ্ছে। নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে দলীয় শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী দুই বছরের আইন প্রণয়ন ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের মধ্যে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। রয়টার্স/ইপসোসের আগস্টের জরিপে ৭১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলার উদ্যোগ নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছিলেন। একই জরিপে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সমর্থনের হার ছিল ৩৬ শতাংশ। জরিপটি ১ হাজার ১৬৭ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত হয়েছিল এবং এর মার্জিন অব এরর ছিল প্রায় ৩ শতাংশ পয়েন্ট।
ইরান থেকে আসা এই সরাসরি রাজনৈতিক বার্তার প্রভাব মার্কিন ভোটারদের ওপর কতটা পড়বে, তা এখনই নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। আইআরজিসির চিঠি মূলত মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি, ইসরায়েলকে সমর্থন, বিদেশে সামরিক সম্পৃক্ততা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মতো বিষয়কে সামনে এনেছে। অন্যদিকে নভেম্বরের নির্বাচনে মার্কিন ভোটারদের সিদ্ধান্তে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ইস্যুগুলোর পাশাপাশি বৈদেশিক নীতির ভূমিকা কতটা থাকবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।