পিটিআই-সরকারের সংঘাত থামাতে পারবেন কি মাওলানা ফজলুর রহমান?

Pinky Saha Pinky Saha ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১১ AM BST ৪৩ বার পঠিত
পিটিআই-সরকারের সংঘাত থামাতে পারবেন কি মাওলানা ফজলুর রহমান?

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন সরকার ও প্রধান বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা কমাতে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-ফজলের (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমানের নাম। দুই পক্ষই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে সমঝোতার পথ খুঁজছে। তবে জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদে তাঁর দলের সীমিত প্রতিনিধিত্বের কারণে সরকার ও পিটিআইকে আলোচনার টেবিলে আনতে তিনি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বর্তমানে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে জেইউআই-এফের ১০টি আসন রয়েছে। খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রাদেশিক পরিষদে দলটির আসন ১৮টি এবং বেলুচিস্তানে ১২টি। এ ছাড়া সিনেটে দলটির সাতজন সদস্য রয়েছেন। রাজনৈতিক প্রভাব আগের তুলনায় কমলেও সংসদীয় রাজনীতি ও বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে মাওলানা ফজলুর রহমানকে এখনো গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছেন কয়েকজন পর্যবেক্ষক।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের রাজনৈতিক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ বলেছেন, মাওলানা ফজলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক হলেও সরকার ও পিটিআইকে আলোচনায় বসানোর বিষয়ে তিনি কোনো আশ্বাস দেননি। অন্যদিকে, পার্লামেন্ট বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরীর দাবি, মাওলানার মধ্যস্থতার বিষয়ে পিটিআই নেতাদের মধ্যেই মতভেদ রয়েছে। তবে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় পিটিআইয়ের সভাপতি জুনায়েদ আকবর জানিয়েছেন, তাঁর দল মাওলানা ফজলুর রহমানকে মধ্যস্থতার দায়িত্ব দিয়েছে।

পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব লেজিসলেটিভ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্সির (পিলড্যাট) সভাপতি আহমেদ বিলাল মাহবুব মনে করেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে মাওলানা ফজলুর রহমান কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। তাঁর মতে, সরকার ও পিটিআই—দুই পক্ষই এখন মুখরক্ষার পথ খুঁজছে। পিটিআই কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি জানিয়েছে, অন্যদিকে সরকার দলটিকে লংমার্চ প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছে।

জেইউআই-এফের মুখপাত্র আসলাম ঘুরি অবশ্য স্পষ্ট করেছেন, মাওলানা ফজলুর রহমান নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখছেন না। তাঁর কাজ হলো সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা শুরুর পথ তৈরি করা। এ লক্ষ্যে সরকারকে পার্লামেন্টে সর্বদলীয় সম্মেলন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে তাঁর দল, যাতে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা যায়।

অতীতে পাকিস্তানের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মাওলানা ফজলুর রহমান। ২০১৯ সালে ইমরান খানের পদত্যাগের দাবিতে ইসলামাবাদে বড় সমাবেশ করেছিলেন তিনি। ২০২২ সালে ইমরান খান সরকারের পতনে ভূমিকা রাখা পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (পিডিএম) জোটেরও নেতা ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সংবিধান সংশোধনী পাসের ক্ষেত্রে তাঁর দলের সমর্থন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তবে সাম্প্রতিক সংসদীয় হিসাব বলছে, তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব আগের মতো নেই।

এদিকে, ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের লংমার্চ ৪ অক্টোবর থেকে খাইবার পাখতুনখাওয়া হয়ে ইসলামাবাদ অভিমুখে চলছে। এর মধ্যে প্রদেশটিতে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারি হওয়ায় রাজনৈতিক সংকট আরও জটিল হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মাওলানা ফজলুর রহমান দুই পক্ষকে আলোচনায় বসাতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করছে সরকার ও পিটিআইয়ের সমঝোতায় পৌঁছানোর সদিচ্ছা এবং তাঁর উদ্যোগে দুই পক্ষের সাড়া দেওয়ার ওপর।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: