ছবি: সংগৃহীত
স্পেসএক্সের স্টারশিপ রকেট আজ সোমবার প্রথমবারের মতো পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশের চেষ্টা করবে। প্রায় তিন বছর আগে পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন শুরু করা এই বিশাল নভোযানের ১৪তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে এবার আরও বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
ভবিষ্যতে চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে অভিযানের জন্য তৈরি স্টারশিপের উন্নয়নে এবারের পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সবকিছু পরিকল্পনামতো হলে পরীক্ষামূলক রকেটটির ওপরের অংশ পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশ করবে।
সোমবারের প্রায় ১০ ঘণ্টার এই পরীক্ষায় কক্ষপথে পৌঁছানোর পর স্টারশিপের ওপরের অংশ থেকে পরবর্তী প্রজন্মের ২৬টি স্টারলিংক স্যাটেলাইট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস থেকে স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে উৎক্ষেপণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে এবারের পরীক্ষাতেও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর আগের একাধিক পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন বড় ধরনের বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। ফলে উৎক্ষেপণের পর অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
টেক্সাসে কয়েক বছর ধরে উন্নয়ন ও পরীক্ষা চালানোর পর ২০২৩ সালে স্টারশিপের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন শুরু করে স্পেসএক্স। প্রাথমিক পরীক্ষাগুলোতে রকেটকে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘সাবঅরবিটাল’ গতিপথে পাঠানো হতো, যাতে সেটি মহাকাশের অনেক ওপরে উঠলেও পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশ না করে ফিরে আসে।
এবার সেই সীমা পেরিয়ে পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশের চেষ্টা করা হবে। প্রতিটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের পর স্টারশিপে বিভিন্ন পরিবর্তন ও উন্নয়ন আনা হয়েছে। বর্তমানে এটি উড্ডয়ন করা সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী রকেট হিসেবে পরিচিত।
২০০২ সালে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম মঙ্গল গ্রহে মানুষের বসতি স্থাপন। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই স্টারশিপকে ভবিষ্যতের চাঁদ ও মঙ্গল অভিযানের উপযোগী করে তোলার চেষ্টা চলছে।
তবে স্টারশিপকে বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য প্রস্তুত করা এবং চাঁদ বা মঙ্গলে পৌঁছানোর মতো সক্ষমতা অর্জনের পথে এখনো বড় ধরনের কারিগরি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। মাস্কের অন্যতম লক্ষ্য হলো রকেটটিকে পুরোপুরি পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা।