শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তায় ইইউর নতুন পরিকল্পনা

Pinky Saha Pinky Saha ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:৩৬ PM BST ৩৬ বার পঠিত
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তায় ইইউর নতুন পরিকল্পনা

Photo Collected

শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষায় ব্যাপক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় কমিশন। ‘ইইউ কিডস অ্যাক্ট’ নামে প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোয় ১৩ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের জন্য অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে সীমিত সুবিধার ‘মিনি অ্যাকাউন্ট’ চালুর প্রস্তাব রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন বলেন, শিশুরা বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তিগুলোর কিছু ব্যবহার করছে। তবে এসব প্রযুক্তি শিশুদের কল্যাণ ও বিকাশকে মাথায় রেখে তৈরি হয়নি। তার ভাষায়, বাস্তব জীবনের মতো ডিজিটাল জগতেও শিশুদের জন্য স্পষ্ট সীমারেখা প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত আইনে ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের নিজস্ব স্বতন্ত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে অভিভাবক বা অভিভাবকের অনুমোদনে অ্যাকাউন্ট চালানোর সুযোগ থাকবে। এসব অ্যাকাউন্টে সীমিত ফিচার ও সময় ব্যবহারের বিধিনিষেধও থাকতে পারে।

১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের জন্যও প্ল্যাটফর্মগুলোকে ‘সেফটি বাই ডিজাইন’ বা শুরু থেকেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নীতিতে সেবা তৈরি করতে হবে। অর্থাৎ শিশু ও কিশোরদের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন ফিচার নিয়ন্ত্রণে প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপরই বেশি দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রস্তাবটি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমাবদ্ধ নয়। ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন ভিডিও গেম, এআই চ্যাটবট ও এআইভিত্তিক সঙ্গীকেও এর আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। শিশুদের ক্ষেত্রে আসক্তি তৈরি করতে পারে এমন ফিচার, অতিরিক্ত ব্যবহার উৎসাহিত করা, ব্যবহারকারীর প্রোফাইল অনুযায়ী কনটেন্ট সুপারিশ এবং অনন্ত স্ক্রলিংয়ের মতো নকশা নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব রয়েছে।

এআইভিত্তিক সঙ্গী ও চ্যাটবটের ক্ষেত্রেও বিশেষ বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের সেবা শিশুদের জন্য বাজারে দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নতুন নিরাপত্তা বাধ্যবাধকতা পূরণের সক্ষমতা দেখাতে হবে এবং উদ্ভূত ঝুঁকি ও ঘটনার ওপর নজরদারির ব্যবস্থা রাখতে হবে।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে শিশুদের জন্য নিরাপদ অ্যালগরিদম তৈরির পাশাপাশি সহজে ব্যবহারযোগ্য অভিভাবক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। একই সঙ্গে ব্লক ও মিউটের মতো নিরাপত্তা ফিচার সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য হলো, শিশুদের ডিজিটাল পরিবেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অভিভাবকদের হাতে আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ দেওয়া।

নতুন ব্যবস্থায় বয়স যাচাইয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় কমিশন বলছে, অনলাইন সেবাদাতাদের নিজেদের সেবাকে শিশুদের জন্য নিরাপদ ও বয়স-উপযোগী হিসেবে প্রমাণ করার দায়িত্ব নিতে হবে। বিশেষ করে বড় অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলার পরিকল্পনা এবং স্বাধীন নিরীক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী বার্ষিক মোট আয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানার বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে এটি এখনো চূড়ান্ত আইন নয়। প্রস্তাবটি কার্যকর হতে হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশগুলো এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সঙ্গে পরবর্তী ধাপে আলোচনা ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ফলে চূড়ান্ত আইনে বয়সসীমা ও অন্যান্য বিধান কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।

শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করার উদ্যোগ ইতিমধ্যে বিশ্বের কয়েকটি দেশেও দেখা গেছে। অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের নতুন প্রস্তাব সেই আন্তর্জাতিক আলোচনাকেই আরও বিস্তৃত করছে। তবে বয়স যাচাই, গোপনীয়তা ও বাস্তবায়নের মতো বিষয়গুলোই নতুন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: