কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবন একসঙ্গে সামলানোর ক্ষেত্রে সঙ্গীর সহযোগিতাকে বরাবরই গুরুত্ব দেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের দাম্পত্য জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। স্বামী শিলাদিত্য মুখোপাধ্যায়ের সহযোগিতা কীভাবে তাদের সংসারকে সহজ করে তুলেছে, সে কথাও জানিয়েছেন এই গায়িকা।
শ্রেয়া ঘোষালের ভাষ্য, শিলাদিত্যকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়ে তিনি নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করেন। সংসারের বিভিন্ন কাজ শিলাদিত্য নিজের হাতেই সামলান। এমনকি নিজের থালাবাসন ধোয়া থেকে শুরু করে রান্নাঘর পরিষ্কার—অনেক কাজই তিনি নিজে করতে পছন্দ করেন। শ্রেয়া সেই কাজগুলো করে দিলে বরং শিলাদিত্য রেগে যান বলেও জানান তিনি।
দুজনেরই ব্যস্ত কর্মজীবন। ফলে সংসারের দায়িত্বও তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন। একে অপরের কাছে সবসময় বাড়িতে থাকার প্রত্যাশা নেই বলেও জানান শ্রেয়া। তার কথায়, দুজনেই সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করেন এবং নিজেদের পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সংসারের কাজও একসঙ্গে সামলে নেন।
শ্রেয়া জানান, অনেক সময় কাজের কারণে তাকে মাসের পর মাস বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। তবে এ নিয়ে কখনো শিলাদিত্য তাকে প্রশ্ন করেননি। প্রেমের সময় থেকেই শিলাদিত্য তার পেশাগত ব্যস্ততার বিষয়টি বুঝতেন। একে অপরের প্রতি আস্থা ও অহমিকার অভাবই তাদের সম্পর্ককে সুন্দর রেখেছে বলে মনে করেন শ্রেয়া।
বর্তমানে তাদের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু তাদের সন্তান। শান্ত স্বভাবের এই দম্পতির পরিচয় অবশ্য বেশ পুরোনো। স্কুলজীবন থেকেই শ্রেয়া ও শিলাদিত্য ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। পরবর্তী সময়ে সেই বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়।
‘দেবদাস’ সিনেমার মাধ্যমে পেশাদার সংগীতজগতে শ্রেয়া ঘোষালের সাফল্যের সূচনা হয়। অন্যদিকে, একই সময়ে শিলাদিত্য তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলছিলেন। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর ২০১৫ সালে বিয়ে করেন তারা।
২০২১ সালে শ্রেয়া ও শিলাদিত্যের সংসারে আসে তাদের প্রথম সন্তান, পুত্র দেবযান। সন্তান, পেশা ও সংসারের দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে নিজেদের মতো করে জীবন এগিয়ে নিচ্ছেন এই দম্পতি।