স্ত্রীকে মাদক প্রয়োগ করে দুই দশক ধরে যৌন নির্যাতন, আদালতে দোষ স্বীকার

Pinky Saha Pinky Saha ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:১০ PM BST ২৯ বার পঠিত
স্ত্রীকে মাদক প্রয়োগ করে দুই দশক ধরে যৌন নির্যাতন, আদালতে দোষ স্বীকার

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের গ্রেটার ম্যানচেস্টারের স্টকপোর্টে স্ত্রীকে অজান্তে মাদক প্রয়োগ করে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি আদালতে ৬০টি অপরাধের অভিযোগ স্বীকার করেছেন। ২০০৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সংঘটিত এসব অপরাধের মধ্যে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মাদক বা অন্য কোনো পদার্থ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার পর ম্যানচেস্টারের মিনশাল স্ট্রিট ক্রাউন কোর্টে অভিযুক্ত ব্যক্তি একে একে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর জবাবে ‘দোষী’ স্বীকার করেন। আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

মামলার শুনানির সময় ভুক্তভোগী নারীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় তিনি পাবলিক গ্যালারিতে বসে পুরো বিচারিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে স্ত্রীর ওপর যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অজান্তে মাদক বা অন্য কোনো পদার্থ প্রয়োগ করে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগও আনা হয়। পাশাপাশি স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া তাঁর অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করার অভিযোগও তিনি স্বীকার করেছেন।

মামলাটির তদন্তকে অত্যন্ত জটিল হিসেবে বর্ণনা করেছে গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ। অভিযুক্তের দোষ স্বীকারের পর বাহিনীর সহকারী প্রধান কনস্টেবল রিক জ্যাকসন বলেন, পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীকে বিশেষায়িত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করেন যে তিনি নিজে বা তাঁর পরিচিত কেউ মাদক প্রয়োগের মাধ্যমে সংঘটিত যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকতে পারেন, তাহলে প্রমাণ, নিশ্চিত স্মৃতি বা ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ না থাকলেও বিষয়টি জানানো উচিত। এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

মামলায় প্রধান অভিযুক্তের পাশাপাশি আরও ১৩ জনের নাম জড়িয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন ইতোমধ্যে ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তবে বাকি ১২ জন সহ-আসামি তাঁদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের বয়স ২৮ থেকে ৭৪ বছরের মধ্যে।

মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে চলবে বলে আদালত জানিয়েছে। বিচার শেষে প্রধান অভিযুক্তের সাজা ঘোষণা করা হবে।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই মামলাটি যুক্তরাজ্যে মাদক প্রয়োগের মাধ্যমে যৌন নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীর কাছে সবসময় ঘটনার সম্পূর্ণ স্মৃতি বা তাৎক্ষণিক প্রমাণ নাও থাকতে পারে। তারপরও অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: