ছবি: সংগৃহীত
সুইডেনের সংসদ নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে মধ্য-বামপন্থী বিরোধী জোট। ৯৯ শতাংশ ভোট গণনার পর দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এসভিটি জানিয়েছে, বিরোধী জোট ৩৪৯ আসনের পার্লামেন্টে ১৭৫টি আসন পেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসনের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ডানপন্থী জোটের সম্ভাব্য আসন ১৭৪টি।
রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ভোট গণনা প্রায় শেষ পর্যায়ে। বুধবার রাত পর্যন্ত দুই জোটের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ২৬ হাজার। তবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দেরিতে আসা ব্যালট এবং বিদেশ থেকে আসা ভোট এখনো গণনা করা হচ্ছে। নির্বাচন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়া বৃহস্পতিবার পর্যন্ত গড়াতে পারে।
বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ম্যাগদালেনা আন্দেরসন। এই জোটে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি বাম, গ্রিন ও সেন্টার পার্টি রয়েছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসনের নেতৃত্বাধীন জোটে রয়েছে মডারেটস, সুইডেন ডেমোক্র্যাটস, ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটস ও লিবারেল পার্টি।
ভোট গণনার বিভিন্ন পর্যায়ে আসনসংখ্যায় সামান্য ওঠানামা হয়েছে। কখনো বিরোধী জোট ১৭৬-১৭৩ আসনে এগিয়েছে, আবার কখনো ব্যবধান কমে ১৭৫-১৭৪ হয়েছে। এসভিটি জানিয়েছে, ৯৯ শতাংশ ভোট গণনার পর্যায়ে বিরোধী জোট ১৭৫ আসন নিয়ে এক আসনের ব্যবধানে এগিয়ে ছিল।
এসভিটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এ পর্যায়ে ফল পুরোপুরি পাল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। তবে যেহেতু কিছু ভোট এখনো গণনা বাকি, তাই চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগে কোনো জোটের আসনসংখ্যাকে পুরোপুরি নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।
নির্বাচনের ফল শেষ পর্যন্ত বিরোধী জোটের বর্তমান ব্যবধান ধরে রাখলে সুইডেনে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করবে। তবে আসনসংখ্যা খুব কাছাকাছি হওয়ায় সরকার গঠনে বিভিন্ন দলের মধ্যে সমঝোতা ও সংসদীয় সমর্থনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এবারের নির্বাচনে সুইডেন ডেমোক্র্যাটসের অবস্থানও বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। দলটি গত চার বছর ধরে ক্রিস্টেরসনের সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করে এলেও আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিসভার অংশ ছিল না। নির্বাচনের আগে দলটির সম্ভাব্য সরকারি ভূমিকা নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছে।
এদিকে সুইডেন ২০২৪ সালে ন্যাটোর ৩২তম সদস্য হওয়ার পর এই নির্বাচন দেশটির নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ও পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশটির রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
বর্তমানে মূল নজর রয়েছে বাকি ভোট গণনা ও চূড়ান্ত আসন বণ্টনের দিকে। নির্বাচন কর্তৃপক্ষের গণনা শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে, ১৭৫-১৭৪-এর এই ব্যবধান শেষ পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকে কি না।