ওয়াশিংটনে সি চিন পিং, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য-তাইওয়ান-ইরান ইস্যু

Pinky Saha Pinky Saha ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩১ AM BST ৫৪ বার পঠিত
ওয়াশিংটনে সি চিন পিং, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য-তাইওয়ান-ইরান ইস্যু

ছবি: সংগৃহীত

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। স্থানীয় সময় বুধবার মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে পৌঁছালে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রী পেং লিউয়ানকে স্বাগত জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। সফরটি দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, তাইওয়ান, বিরল খনিজ এবং ইরান ইস্যুতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এখনো নানা মতবিরোধ রয়েছে।

প্রায় তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন সি চিন পিং। সফরে বড় কোনো কূটনৈতিক সমঝোতার প্রত্যাশা সীমিত হলেও দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে করা বাণিজ্য সমঝোতার মেয়াদ আগামী ১০ নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে ১০ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত করা হবে। এর ফলে দুই দেশ আরও সময় নিয়ে বৃহত্তর অর্থনৈতিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে পারবে।

জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সি চিন পিং ও পেং লিউয়ানকে স্বাগত জানান ট্রাম্প ও মেলানিয়া। দুই দেশের প্রেসিডেন্ট পরস্পরের সঙ্গে করমর্দন করেন এবং কিছু সময় কথা বলেন। পরে তাঁরা ছবি তোলেন। এ সময় সামরিক আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে ব্যান্ডের বাদ্য বাজানো হয় এবং আকাশে বি-১ বোমারু বিমান উড়তে দেখা যায়।

চীনের প্রেসিডেন্টের এ সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৫ সালের শুল্কযুদ্ধের পর বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। বাণিজ্য সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর ফলে অন্তত স্বল্পমেয়াদে নতুন করে শুল্ক উত্তেজনা এড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে বাণিজ্যের বাইরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বেশ কিছু বড় মতবিরোধ রয়েছে। বিরল খনিজ ও উন্নত প্রযুক্তি পণ্য রপ্তানির নিয়ন্ত্রণ, সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাইওয়ান এবং ইরানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক—এসব বিষয় বৈঠকের আলোচনায় আসতে পারে। এআই নিয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়লেও ঝুঁকি মোকাবিলায় সংলাপের সম্ভাবনাও রয়েছে।

তাইওয়ান ইস্যুতেও দুই দেশের অবস্থানে বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সি চিন পিং বৈঠকে তাইওয়ান নিয়ে চীনের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন। অন্যদিকে ওয়াশিংটন এ বিষয়ে নিজেদের নীতিগত অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করতে পারে। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হতে পারে।

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর সি চিন পিং ও পেং লিউয়ানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হবে। এরপর দুই দেশের প্রেসিডেন্টের মধ্যে বৈঠক ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: