ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের অখণ্ডতা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দেশটির তিন স্বশাসিত অংশ—স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ড—নিজেদের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার এবং স্বাধীনতার বিষয়ে গণভোট আয়োজনের দাবিতে একযোগে অবস্থান নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এ নিয়ে ওয়েস্টমিনস্টারের ওপর চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যেই তিন অঞ্চলের নেতারা যৌথভাবে একটি ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে পারেন বলে জানা গেছে।
ব্রিটেনের কেন্দ্রীয় প্রশাসন ওয়েস্টমিনস্টারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন বিষয়ে টানাপোড়েন রয়েছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের। বিশেষ করে সাংবিধানিক ক্ষমতা, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং নিজ নিজ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার নিয়ে এসব অঞ্চলের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কেন্দ্রবিরোধী মনোভাব রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন স্বশাসিত রাষ্ট্রের নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে। সেখানে নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণের কথা রয়েছে। বৈঠকে আলোচনার ভিত্তিতেই ওয়েস্টমিনস্টারের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের নেতারা নিজেদের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়ে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করতে পারেন। এমন ঘোষণা দেওয়া হলে তা যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর একটি সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে দেখা হবে।
স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার প্রশ্নটি অবশ্য যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন নয়। ২০১৪ সালে সেখানে স্বাধীনতার দাবিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকার পক্ষে মত দেন। তবে পরবর্তী সময়ে ব্রেক্সিটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে স্কটল্যান্ডে আবারও স্বাধীনতার দাবি জোরালো হয়েছে।
ওয়েলসেও কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ক্ষমতার ভারসাম্য ও সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অন্যদিকে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবে থাকা নাকি আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়া—এই প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে তিন অঞ্চলের নেতাদের সমন্বিত উদ্যোগ যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
তবে যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করলেই যুক্তরাজ্য ভেঙে যাবে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনই বলা যাচ্ছে না। স্বাধীনতার গণভোট আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের রাজনৈতিক সমর্থনের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ওয়েস্টমিনস্টার সরকার গণভোটের অনুমতি দেবে কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন।
তিন স্বশাসিত রাষ্ট্রের সম্ভাব্য যৌথ অবস্থান মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারের প্রশ্নকে সামনে এনে তারা ওয়েস্টমিনস্টারের সঙ্গে আলোচনার পরিসর বাড়াতে চাইছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের মধ্যে এমন সমন্বিত রাজনৈতিক উদ্যোগ যুক্তরাজ্যের অখণ্ডতা নিয়ে বিতর্ককে আরও তীব্র করতে পারে। তবে এর পরিণতি শেষ পর্যন্ত কী হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জনগণের সমর্থন, স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান এবং ওয়েস্টমিনস্টার সরকারের প্রতিক্রিয়ার ওপর।