আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ‘অভূতপূর্ব ও অগ্রহণযোগ্য’: নাভি পিল্লাই

Pinky Saha Pinky Saha ১১ অক্টোবর ২০২৬, ৫:০০ PM BST ২৭ বার পঠিত
আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ‘অভূতপূর্ব ও অগ্রহণযোগ্য’: নাভি পিল্লাই

সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কঠোর সমালোচনা করেছেন নাভি পিল্লাই। শান্তিতে নোবেলজয়ী এই মানবাধিকারকর্মী ও আইসিসির সাবেক বিচারক মার্কিন পদক্ষেপকে ‘অভূতপূর্ব ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, বিচারকদের দেওয়া আদেশের কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক।

শনিবার (১০ অক্টোবর) নরওয়ের অসলোর নোবেল পিস সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নুরেমবার্গ থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন পিল্লাই। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক আদালতগুলোর কার্যক্রম, বিশেষ করে হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ভবিষ্যৎ নিয়ে বর্তমানে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আদালতে কর্মরত শত শত কর্মী নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে হুমকির আশঙ্কায় রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকার ৮৫ বছর বয়সী এই আইনজীবী বলেন, বিচারকরা তাঁদের দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে যেসব আদেশ দিয়েছেন, তার জের ধরে একটি দেশ তাঁদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। তাঁর ভাষায়, এমন পদক্ষেপ নজিরবিহীন এবং গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি নাভি পিল্লাইকে এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেয়। তবে পুরস্কার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা ও আদালতের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। এবারও পুরস্কার না পাওয়ার পর তিনি ও তাঁর মিত্র ইসরাইল নোবেল কমিটির সমালোচনা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নাভি পিল্লাই ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ওই কমিশন গত বছর গাজায় গণহত্যা সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি চিহ্নিত করেছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং নাভি পিল্লাইয়ের বক্তব্য আন্তর্জাতিক আদালতের স্বাধীনতা, বিচারকদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সুরক্ষার প্রশ্নকে আবারও সামনে এনেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার পরিচালনায় আদালতগুলোর স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ কতটা বজায় থাকবে, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: