ব্রিকস সম্মেলনে ‘দিল্লি ঘোষণা’, বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বার্তা

Pinky Saha Pinky Saha ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:২৮ PM BST ৩১ বার পঠিত
ব্রিকস সম্মেলনে ‘দিল্লি ঘোষণা’, বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বার্তা

ছবি: সংগৃহীত

দুই দিনব্যাপী ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে সর্বসম্মতিক্রমে ‘দিল্লি ঘোষণা’ গৃহীত হয়েছে। এতে সন্ত্রাসবাদ, একতরফা সামরিক সংঘাত ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থানের পাশাপাশি গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধিত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ বডি:

বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্য ও ভূরাজনীতিতে নতুন বার্তা দিয়ে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শেষ হয়েছে দুই দিনব্যাপী ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিনভর বহুপক্ষীয় আলোচনা ও একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর সর্বসম্মতিক্রমে ঐতিহাসিক ‘দিল্লি ঘোষণা’ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়।

ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত এবারের সম্মেলনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোসহ জোটের সদস্য ও সহযোগী দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে এবারের সম্মেলনে টেকসই সক্ষমতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব নীতির ভিত্তিতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা, সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করা এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন নেতারা।

সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় নরেন্দ্র মোদি বলেন, বিশ্বমঞ্চে ব্রিকসকে আরও সমন্বিত, শক্তিশালী ও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে এসব নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোর মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পায় ভারত-চীন ও ভারত-রাশিয়া বৈঠক। দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতীয় ভূখণ্ডে সফর করে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

ভারত-চীন বৈঠকে হিমালয় সীমান্ত তথা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দেন মোদি। দুই দেশের মধ্যকার মতপার্থক্য যেন বিরোধে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেন তিনি। সীমান্তসংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতাগুলো মেনে চলার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মান, সংবেদনশীলতা ও স্বার্থের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকেও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন মোদি। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ ও সংঘাত নিরসনে সামরিক পন্থার পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

সম্মেলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ‘দিল্লি ঘোষণা’। ৪৫ পৃষ্ঠা ও ১৪০ অনুচ্ছেদের এ ঘোষণাপত্রে বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসী অর্থায়নের নিন্দা জানানো হয়। পাশাপাশি একতরফাভাবে সামরিক সংঘাত চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নরেন্দ্র মোদি বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর হিস্যা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভারত সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপ তৈরির বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন তিনি।

মোদি বলেন, প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক নীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই এসব ক্ষেত্রে ন্যায্যতা, সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

সম্মেলন শেষে ব্রিকস নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দিল্লির ‘ভারত ইনোভেটস’ প্রযুক্তি প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানে উদীয়মান প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের বিভিন্ন দিক পরিদর্শনের পাশাপাশি তরুণ উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করেন তিনি।

দুই দিনের সম্মেলন শেষে ২০২৭ সালে ব্রিকসের ১৯তম শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক ও পরবর্তী সভাপতির দায়িত্ব নিতে যাওয়া চীনকে শুভেচ্ছা জানান নরেন্দ্র মোদি। শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে আগামী বছর ব্রিকস আরও কার্যকর ও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশের মধ্য দিয়ে নয়াদিল্লি সম্মেলনের সমাপ্তি টানা হয়।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: