ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ সালের প্রথমার্ধে চীনে জার্মান কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে জার্মান প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জার্মান ইকোনমিক ইনস্টিটিউটের (আইডব্লিউ) এক গবেষণায় জার্মান কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুন্দেসব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
গবেষণা অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে চীনে জার্মান কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ইউরো বেড়েছে। তবে এই বিনিয়োগের পরিমাণ ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি ছয় মাসে গড় বিনিয়োগের কাছাকাছিই রয়েছে। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধির বড় একটি অংশ এসেছে ২০২৫ সালের তুলনামূলক কম বিনিয়োগের ভিত্তির কারণে।
চীনের বিশাল ভোক্তা বাজার এবং স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা জার্মান কোম্পানিগুলোকে দেশটিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে উৎসাহিত করছে। আইডব্লিউর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চীনে বিনিয়োগ এখন শুধু বাজার সম্প্রসারণের বিষয় নয়; বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার কৌশলের অংশও হয়ে উঠেছে।
গবেষণা অনুযায়ী, জার্মান কোম্পানিগুলোর কাছে চীন গুরুত্বপূর্ণ বিক্রয় বাজারের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর একটি ক্ষেত্র। চীনের সরকারি ভর্তুকি ও তুলনামূলক দুর্বল ইউয়ানের কারণে সেখানে উৎপাদন ব্যয় কম থাকার বিষয়টিও গবেষণায় তুলে ধরা হয়েছে। ফলে চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে পাল্লা দিতে জার্মান প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জার্মান কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমে ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউরোর কাছাকাছি নেমে এসেছে। বাণিজ্যিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্ককে এই পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে জার্মান কোম্পানিগুলোর অনিশ্চয়তা বেড়েছে।
চীনে জার্মান বিনিয়োগ বাড়ার বিপরীতে ইউরোপ থেকে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের একটি অংশ চীনে স্থানান্তরের ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চীনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেন অসম পরিস্থিতির মুখে না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক হওয়ার আহ্বান উঠেছে।
এ পরিস্থিতিতে চীনা পণ্যের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাল্টা শুল্ক আরোপের মাধ্যমে অসম প্রতিযোগিতা মোকাবিলার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ফলে একদিকে চীনের বাজারে জার্মান কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বাড়ছে, অন্যদিকে ইউরোপের শিল্প ও কর্মসংস্থান রক্ষায় নীতিনির্ধারকদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।