Photo Collected
ইউরোপজুড়ে রেকর্ড তাপপ্রবাহের প্রভাবে চলতি বছর সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলোতে ব্যাপক হারে বরফ গলেছে। এক বছরে দেশটির হিমবাহগুলোর ৫ শতাংশের বেশি বরফ হারিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সুইস গ্লেসিয়ার মনিটরিং নেটওয়ার্ক (গ্ল্যামোস) ও সুইস একাডেমি অব সায়েন্সেসের সুইস কমিশন ফর ক্রায়োস্ফিয়ার অবজারভেশন।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহ সংকুচিত হওয়ার হার দ্রুত বাড়ছে। গত পাঁচ বছরে দেশটির হিমবাহগুলো প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বরফ হারিয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে পানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে ইউরোপের বরফে ঢাকা অঞ্চলগুলোর দীর্ঘমেয়াদি অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
গ্ল্যামোসের পরিচালক ম্যাথিয়াস হাস বলেন, বিশ্ব এখন এমন এক নতুন বাস্তবতার দিকে যাচ্ছে, যেখানে বরফ গলে হিমবাহগুলো মানুষের চোখের সামনেই দ্রুত ছোট হয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, শীতকালে তুলনামূলক কম তুষারপাত এবং গ্রীষ্মে রেকর্ড তাপমাত্রার কারণে চলতি বছর হিমবাহ গলার মাত্রা বিশেষভাবে বেশি।
হাস জানান, এখন প্রায় প্রতিবছরই চরম পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তবে চলতি বছরের বরফ গলার হার ২০২২ সালের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায়নি। ওই বছর উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা ধুলোর কণা তুষারের ওপর জমে যাওয়ায় সূর্যের তাপ বেশি শোষিত হয়েছিল এবং নজিরবিহীন হারে বরফ গলেছিল।
চলতি বছরে সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় হিমবাহ আলেৎশ সবচেয়ে বেশি বরফ হারিয়েছে। অন্যদিকে গ্লেসিয়ার দ্য সঁফ্লেরঁ হিমবাহের গড় পুরুত্ব ৪ মিটারের বেশি কমেছে। কয়েক বছর আগেও এমন মাত্রার পরিবর্তন কল্পনা করা কঠিন ছিল বলে মন্তব্য করেন হাস।
গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, শুধু জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো প্রায় ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন লিটার পানি হারিয়েছে। দেশটির পরিবারগুলো এক বছরে যে পরিমাণ খাবার পানি ব্যবহার করে, এই পরিমাণ তার চার গুণেরও বেশি।
তবে হিমবাহের বরফ গলার একটি সাময়িক ইতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। গ্রীষ্মকালে হিমবাহের গলিত পানি পানির সংকট কিছুটা কমাতে সহায়তা করে। কিন্তু হিমবাহের আয়তন ও বরফে ঢাকা এলাকা ক্রমাগত কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে এই সুবিধাও কমে আসবে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকেরা।
হাস বলেন, হিমবাহ কত দ্রুত গলছে, সে বিষয়ে বিজ্ঞানীরা এখন ভালোভাবেই অবগত। তবে পাহাড়ের যেসব এলাকায় আগে তুষারের স্তর দেখা যেত, সেসব জায়গায় এখন শুধু পাথর দেখা যাওয়ার বিষয়টি তাঁকে উদ্বিগ্ন ও কষ্ট দেয়।