ছবি: সংগৃহীত
কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে (এসআরএফটিআই) একটি অনুষ্ঠান ঘিরে শিক্ষার্থী ও অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের (এবিজিপি) সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববারের এ ঘটনায় দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
জানা গেছে, এসআরএফটিআইয়ের প্রধান অডিটোরিয়াম ভাড়া নিয়ে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছিল এবিজিপি। সংগঠনটির অনুষ্ঠান ক্যাম্পাসে আয়োজনের বিষয়টি নিয়ে একদল শিক্ষার্থী আপত্তি জানান। তাঁদের প্রশ্ন ছিল, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে কেন এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হলো।
এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও আয়োজকদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পাসের ভেতরেই দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনুষ্ঠানে আপত্তি জানানোর পর এবিজিপির সদস্যরা তাঁদের ওপর হামলা করেন। তাঁদের আরও দাবি, বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে ঢুকে শিক্ষার্থীদের মারধর করেছেন এবং কয়েকজনকে ‘দেশবিরোধী’, ‘নকশাল’ ও ‘জঙ্গি’ বলে কটূক্তি করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেছেন, কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করা হয়েছে এবং শিক্ষকও হামলার শিকার হয়েছেন। এসব অভিযোগের সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে এবিজিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের নির্ধারিত অনুষ্ঠান চলার সময় শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়ে কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করেন। আয়োজকদের অভিযোগ, তাঁদের পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে এবং তাঁদের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
এবিজিপির এক সদস্যের দাবি, তাঁদের চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। অনুষ্ঠানের সময় স্বামী বিবেকানন্দের ছবি বা প্রতিকৃতি ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
আহত শিক্ষার্থী-শিক্ষক
সংঘর্ষে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সোমবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী ও দুই শিক্ষক আহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে; ২৫ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের বাইরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। শিক্ষার্থীরা ফটক বন্ধ করে দেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ প্রবেশ নিয়ে জটিলতা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কলকাতা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তবে ক্যাম্পাসে পুলিশ প্রবেশ নিয়ে শুরুতে জটিলতা তৈরি হয় বলে আপনার দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে।
রাত পর্যন্ত ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক
এসআরএফটিআইয়ের ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন কলকাতার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ঘিরে উত্তেজনার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে।
এসআরএফটিআইয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মূল আপত্তি ছিল, তাঁদের না জানিয়ে একটি বাইরের সংগঠনকে ক্যাম্পাসের প্রধান অডিটোরিয়াম ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে এসআরএফটিআইয়ের এক শিক্ষক জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির কমিউনিটি হল বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য, বিশেষ করে সপ্তাহান্তে, ভাড়া দেওয়া হয়।
ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে বাইরের সংগঠনের কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি, ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের আপত্তি—এসব বিষয় নতুন করে আলোচনায় এসেছে।