ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলি হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নিখোঁজ ১৭ ফিলিস্তিনির মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ‘শহীদদের মরদেহ উদ্ধার’ প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স। তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৯ জুলাই এই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ইসরাইলি হামলায় ধ্বংস হওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা নিখোঁজ ফিলিস্তিনিদের মরদেহ খুঁজে বের করাই প্রকল্পটির লক্ষ্য। তবে উদ্ধারকারী দলগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জামের ঘাটতি থাকায় অভিযান ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে উত্তর গাজার গাজা সিটি এবং মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে ধ্বংস হওয়া বাড়িঘরের নিচে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। গাজা সিটির জেইতুন ও ইয়ারমুক এলাকায় হাজ্জি ও আল-নাদিম পরিবারের বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৬ জন নিখোঁজ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিনে নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে আল-ওয়ার পরিবারের একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও একজনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।
গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষের মরদেহ আটকে থাকতে পারে। কিন্তু উদ্ধারকারী দলগুলোর সীমিত সক্ষমতার কারণে দ্রুত এসব মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের বিশাল ধ্বংসস্তূপ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হলেও পর্যাপ্ত সরঞ্জাম না থাকায় উদ্ধারকাজে দীর্ঘ সময় লাগছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ধ্বংসস্তূপ অপসারণ এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি গাজায় প্রবেশের কথা ছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত সরঞ্জাম এখনো সেখানে পৌঁছায়নি। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান ও মরদেহ উদ্ধারের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি স্বজনদের কাছে নিখোঁজদের পরিচয় নিশ্চিত করাও এই অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকার কারণে অনেক ক্ষেত্রে মরদেহ শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
সিভিল ডিফেন্সের এই অভিযান গাজায় যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতির একটি ভয়াবহ চিত্রও সামনে আনছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ধ্বংসস্তূপ সরানো, নিখোঁজদের সন্ধান এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের মতো জরুরি কাজ শেষ হয়নি। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সহায়তা না পাওয়া পর্যন্ত এসব উদ্ধার অভিযান ধীরগতিতেই চলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।