গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েলকে পদত্যাগের নির্দেশ

Pinky Saha Pinky Saha ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১:০২ PM BST ১৩ বার পঠিত
গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েলকে পদত্যাগের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বলেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগ ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, গিলফয়েলকে বরখাস্ত করার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, গিলফয়েল ভালো কাজ করছিলেন। তবে তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো প্রশাসনের পছন্দ হয়নি। এর পরদিনই হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারাইয়া গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত মাস থেকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এ প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে গিলফয়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এসব প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, গ্রিস সরকারকে চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ব্যবহারের হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া গ্রিসের একটি জ্বালানি কোম্পানির লবিস্টের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ওই কোম্পানির পক্ষে প্রচারণার বিষয়েও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

আরও একটি প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, ধনী গ্রিক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিজের যোগাযোগের কথা বলে বড়াই করেছিলেন গিলফয়েল। মার্কিন ব্যবসায়ী এরিক ডিটার্স ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-কে দাবি করেন, অর্থের বিনিময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন গিলফয়েল। এমনকি একপর্যায়ে তাঁর কাছে এক লাখ ডলারের ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধের অনুরোধ করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে গিলফয়েল তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ট্রাম্প ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর প্রতি নিজের শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি অভিযোগগুলোকে মিথ্যা দাবি করে নিজের নাম, সুনাম ও সততা রক্ষায় লড়াই করার কথা জানান।

গিলফয়েল গ্রিসে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আলোচনায় ছিলেন। দেশটির বিভিন্ন তারকা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর সামাজিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গ্রিসে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি এবং এক্সনমবিলসহ বিভিন্ন কোম্পানির তেল-গ্যাস অনুসন্ধানসংক্রান্ত চুক্তির পক্ষে সক্রিয় ছিলেন তিনি।

গ্রিসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি ন্যাটোর সদস্য এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দেয়। ফলে গিলফয়েলকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার ঘটনায় গ্রিসের রাজনৈতিক মহলেও প্রশ্ন উঠেছে।

গিলফয়েলের কিছু বক্তব্য দুই দেশের বাইরেও কূটনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছিল। গত বছরের নভেম্বরে গ্রিসে দায়িত্ব নেওয়ার পর এক সাক্ষাৎকারে তিনি চীনের পিরেয়ুস বন্দরে থাকা ৬৭ শতাংশ মালিকানা বিক্রি করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এরপর গ্রিসে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আধিপত্যবাদী মনোভাবের অভিযোগ তোলেন।

এদিকে গিলফয়েলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে গ্রিস সরকার এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও এথেন্সে মার্কিন দূতাবাসের কাছ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: