collected
ইরানের দেওয়া প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ছাড় দেবে না তেহরান। শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের সব শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। তাঁর বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবের সব শর্ত বাস্তবায়ন করলেই কেবল প্রণালিটি পুনরায় খুলবে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র শর্তগুলো মেনে নিলে সাত দিনের একটি পরিকল্পনার আওতায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। একই সময়ে লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় এবং ইরানি তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তও দিয়েছে তেহরান।
আরাগচি বলেন, প্রস্তাবটি গ্রহণের পর সাত দিনের সময়সীমা শুরু হবে। এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলে ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা এবং সপ্তম দিনে পারমাণবিক কর্মসূচিসহ চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব রয়েছে।
তবে পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন জ্যেষ্ঠ ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারসহ নিজেদের পারমাণবিক অধিকার থেকে কোনো ছাড় দেবে না ইরান। একই সঙ্গে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর মার্কিন দাবিও মেনে নেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) অনুযায়ী পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত তেহরান। তবে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, আলোচনায় বসলেও নিজেদের পারমাণবিক অধিকার ত্যাগ করার প্রশ্নে ইরান নমনীয় হবে না।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তা শুক্রবার জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা চলছে এবং পারমাণবিক ইস্যুও আলোচনার অংশ।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে দুই দেশের স্বার্থও পরস্পর বিপরীত। ইরান মার্কিন নৌ অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মাধ্যমে চাপ কমাতে চাইছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য হরমুজ প্রণালি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান নৌপথ।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর বিরোধ রয়েছে। ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যের বলে দাবি করে আসছে এবং পারমাণবিক প্রযুক্তি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারকে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার হিসেবে বিবেচনা করে।