Photo Collected
যুদ্ধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত। এবার গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি পুনরায় খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কয়েকটি শর্ত দিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ওই বৈঠকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের অবস্থান তুলে ধরা হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অবিলম্বে তুলে নেওয়া, ইরানের জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা এবং বিভিন্ন ‘প্রতিরোধ ফ্রন্টে’ যুদ্ধ বন্ধ করা।
এর আগে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে পারে তেহরান। এই প্রস্তাব মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করত এবং বিশ্বের দৈনিক অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এখান দিয়ে যেত। তবে ২২ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, এক দিনে মাত্র দুটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে।
জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়েছে। একই সময়ে সৌদি আরব বিকল্প পথে তেল সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে এবং দেশটির ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনও পুনরায় চালু করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন পক্ষ জলপথটি নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে পুনরায় চালুর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।