হরমুজে জাহাজে হামলা, বাড়ছে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ

Pinky Saha Pinky Saha ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:১১ PM BST ২৩ বার পঠিত
হরমুজে জাহাজে হামলা, বাড়ছে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে প্রজেক্টাইল আঘাত হানার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ নৌবাহিনী-সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় একটি জাহাজে হামলার খবর তারা পেয়েছে। তবে রোববার ভোর পর্যন্ত জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিংবা ক্রুদের অবস্থা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর একদিন আগে সৌদি আরব জানিয়েছিল, ড্রোন হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পাইপলাইনটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়। বাগদাদ ও রিয়াদ জানিয়েছে, ইরাক থেকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হামলাটি চালিয়ে থাকতে পারে। তবে হামলার দায় কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার পরিস্থিতিতে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি গত ছয় মাস ধরে সৌদি তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পাইপলাইনটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হচ্ছিল, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের আনুমানিক ৪ থেকে ৫ শতাংশ।

ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলো সরবরাহসংকটে পড়লেও সৌদি আরব তুলনামূলকভাবে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে পেরেছে। তবে পাইপলাইনটি সাময়িক বন্ধ হওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে।

পাইপলাইনে হামলার পর স্যাটেলাইট ছবিতে মদিনার দক্ষিণে একটি এলাকা থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই ঘটনায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, তা বিস্তারিত জানানো হয়নি।

আয়ারল্যান্ডে নিজের একটি রিসোর্টে আয়োজিত গলফ টুর্নামেন্টে যাওয়ার পথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সৌদি পাইপলাইনে হামলার জন্য সম্ভবত ইরান দায়ী। তবে তাঁর এই মন্তব্যের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপনের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে শনিবার সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, হুতিদের ছোড়া একটি প্রজেক্টাইল জাজান অঞ্চলে আঘাত হেনেছে। এতে দুজন আহত হয়েছেন এবং একটি মসজিদসহ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে। এরই মধ্যে গত এক সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও তেল পরিবহনের বিকল্প পথ নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে জ্বালানির দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: