ইরান যুদ্ধের পরবর্তী কৌশল নিয়ে উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্প

Pinky Saha Pinky Saha ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩১ PM BST ৩১ বার পঠিত
ইরান যুদ্ধের পরবর্তী কৌশল নিয়ে উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এ বৈঠক হওয়ার কথা জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। বৈঠকে ইরান যুদ্ধের পরবর্তী কৌশল এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমান—উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর নেতাদের বা প্রতিনিধিদের বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ-পরবর্তী একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

এর মধ্যেই ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ওমানে মার্কিন কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠকের খবর সামনে এসেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, গত সপ্তাহান্তে মাসকাটে মার্কিন দূতাবাসে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওমান সরকার আলোচনার আয়োজন করতে সহায়তা করেছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বৈঠকে হুতিদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ আবদুস সালামসহ কয়েকজন প্রতিনিধি অংশ নেন বলে সূত্রের বরাতে জানা গেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ও যুক্তরাষ্ট্র-হুতি ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, হুতি প্রতিনিধিরা মার্কিন কর্মকর্তাদের বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজে হামলা চালানোর কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতিতেও তারা বহাল থাকার কথা জানিয়েছে। একটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজেও হামলা না চালানোর কথা বলা হয়েছে, যদিও সৌদি জাহাজের ক্ষেত্রে ভিন্ন অবস্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বৈঠকের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি। তবে তারা জানিয়েছে, লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঠেকানো যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থের অংশ।

এদিকে হুতিদের সাম্প্রতিক সামরিক অগ্রযাত্রা নিয়ে সৌদি আরব উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সম্প্রতি ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলে হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক সহায়তা চেয়েছিলেন বলে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত সরাসরি সামরিকভাবে হুতি-বিরোধী যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। বরং সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

হুতিদের সাম্প্রতিক অভিযানে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার খবর এসেছে। এর মধ্যে মোখা বন্দর ও বাব আল-মানদেব প্রণালির পেরিম দ্বীপ রয়েছে। লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হওয়ায় এ অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের পর থেকে হুতিদের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সংঘাত চলে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও জুলাই থেকে নতুন করে উত্তেজনা ও সংঘাত শুরু হয়। বর্তমানে ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি ইয়েমেন ও লোহিত সাগরকেন্দ্রিক উত্তেজনাও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং একই সময়ে হুতিদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের সরাসরি আলোচনা—দুই উদ্যোগই ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তবে এসব আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতি কীভাবে পরিচালিত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: