ছবি: সংগৃহীত
ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে দেশটিতে নতুন করে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরু করার বিষয়ে এখনো দ্বিধায় রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, পেন্টাগন স্বল্প সময়ের মধ্যে তীব্র হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে। সম্ভাব্য এই অভিযান প্রায় তিন দিন স্থায়ী হতে পারে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত, জ্বালানি স্থাপনা, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ড পোস্ট ও সদর দপ্তরকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। যুদ্ধের শুরুর দিকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইরান আবারও তাদের অস্ত্রের মজুত অনেকটা পুনর্গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শিগগিরই এ অঞ্চলে তিনটি বিমানবাহী রণতরি মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক নাবিক, মেরিন সেনা ও সামরিক উড়োজাহাজ ওই অঞ্চলে অবস্থান করবে। ২০০৩ সালের পর এই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যে একসঙ্গে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার হলেও ইরানে হামলার চূড়ান্ত অনুমতি দেবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাবেন না। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ চলছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মতবিরোধের কারণে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
গত কয়েক মাসে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কৌশল উন্নত হওয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীকে আগের তুলনায় বেশি প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা বাড়ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি ও আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচল ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ব্রিটিশ নৌবাহিনী পরিচালিত একটি পর্যবেক্ষক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরের বড় ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলার পর থেকে ইরান অন্তত ১৩টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তবে এসব ঘটনার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র বড় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়নি।
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার পক্ষে রয়েছেন মার্কিন প্রশাসনের কেউ কেউ। তাঁদের ধারণা, এতে তেহরান আলোচনায় আরও ছাড় দিতে পারে। অন্যদিকে, সামরিক অভিযানের পক্ষের কর্মকর্তারা মনে করছেন, স্বল্প সময়ের তীব্র হামলা ইরানের অর্থনৈতিক সংকট আরও বাড়াতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি চললেও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প কোন পথে এগোবেন, তা এখনো অনিশ্চিত।