ইরানে স্কুল ও ক্রীড়া স্থাপনায় মার্কিন হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল: জাতিসংঘ

Pinky Saha Pinky Saha ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:০০ PM BST ৩৩ বার পঠিত
ইরানে স্কুল ও ক্রীড়া স্থাপনায় মার্কিন হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল: জাতিসংঘ

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের একটি স্কুল ও একটি ক্রীড়া স্থাপনায় মার্কিন সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের শামিল এবং যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের স্বাধীন তথ্য অনুসন্ধানী মিশন। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরও ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানে মার্কিন বিমান হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির বিষয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।

জাতিসংঘের স্বাধীন ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন অন ইরান সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ফেব্রুয়ারির হামলাগুলোর বিষয়ে তাদের অনুসন্ধানের তথ্য তুলে ধরেছে। মিশনটি ইরানের বিভিন্ন ঘটনায় মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ নথিবদ্ধ ও যাচাই করার কাজ করছে।

তদন্তকারীদের মতে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় মার্কিন বাহিনী জড়িত থাকার যুক্তিসংগত ভিত্তি পাওয়া গেছে। হামলায় বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হওয়ার কথা ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তাদের হিসাবে নিহতদের বড় একটি অংশ ছিল স্কুলশিক্ষার্থী।

জাতিসংঘের অনুসন্ধানে বিদ্যালয়টিকে স্পষ্টভাবে বেসামরিক স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এমন কোনো প্রমাণ পাননি যে হামলার সময় স্কুলটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এ কারণে স্কুলের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলার বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের ওই স্কুল ভবনে হামলাটি একটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সময় ঘটে থাকতে পারে। স্কুলটির কাছাকাছি একটি ইরানি সামরিক স্থাপনা ছিল। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্য নির্ধারণের সময় পুরোনো গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহারের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

তদন্তকারীদের মতে, কোনো স্থাপনাকে সামরিক লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করার আগে গোয়েন্দা তথ্য যাচাই ও হালনাগাদ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেসামরিক স্থাপনা এবং সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে পার্থক্য নিশ্চিত না করে হামলা চালানো হলে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মৌলিক নীতিগুলো লঙ্ঘিত হতে পারে।

ইরানি কর্মকর্তাদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ওই হামলায় নিহত মানুষের সংখ্যা ১৫০-এর বেশি। কিছু ইরানি সূত্রে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে পার্থক্য রয়েছে।

জাতিসংঘের মিশন ইরানের লামার্দ শহরের একটি ক্রীড়া কেন্দ্রের ওপর হামলার ঘটনাও তদন্ত করেছে। ওই হামলায় আশপাশের আবাসিক ভবন ও একটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে ২২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

মিশনের অনুসন্ধানে লামার্দের ঘটনাটিকেও নির্বিচার হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বেসামরিক মানুষ ও স্থাপনার ওপর নির্বিচার হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হতে পারে এবং পরিস্থিতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে তা যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর এরই মধ্যে ইরানে মার্কিন বিমান হামলার ঘটনায় বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ১৪ সেপ্টেম্বরের বিবৃতিতে জাতিসংঘের ইরানবিষয়ক তথ্য অনুসন্ধানী মিশন দ্রুত যুদ্ধ ও সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল।

তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধানী মিশনের প্রতিবেদনকে কোনো আদালতের চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখা যায় না। মিশনের কাজ হলো ঘটনাগুলোর তথ্য সংগ্রহ, যাচাই এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের আলোকে সেগুলো মূল্যায়ন করা। কোনো হামলা চূড়ান্তভাবে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।

ইরানে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন মানবাধিকার প্রক্রিয়া আগেও উদ্বেগ জানিয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে জাতিসংঘের বিশেষ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বাহিনীর ওপর ইরানের বেসামরিক-সম্পর্কিত অবকাঠামোয় হামলার অভিযোগের কথাও নথিবদ্ধ করা হয়েছিল।

স্কুল, আবাসিক এলাকা ও ক্রীড়া স্থাপনার মতো বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার অভিযোগ তাই আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের দৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানগুলোতে এসব ঘটনায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও হামলার বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন সামনে এসেছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: