Photo Collected
ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দোষী সাব্যস্ত এক ইসরায়েলি নাগরিককে সাড়ে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। বুধবার লোড শহরের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট পেতাহ তিকভা শহরের বাসিন্দা আলেকজান্ডার গ্রানোভস্কির বিরুদ্ধে এ সাজা ঘোষণা করেন।
হিব্রু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির মামলায় ইসরায়েলে এ পর্যন্ত দেওয়া সাজাগুলোর মধ্যে গ্রানোভস্কির কারাদণ্ড অন্যতম কঠোর। ২০২৪ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থের বিনিময়ে গ্রানোভস্কি একজন ইরানি গোয়েন্দা কর্মকর্তার হয়ে বিভিন্ন নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কাজ করতেন। এসব কাজের বিনিময়ে পাওয়া অর্থ তার ডিজিটাল ওয়ালেটে পাঠানো হতো। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে তিনি ওই ইরানি অপারেটিভের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।
তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, গ্রানোভস্কি ইসরায়েলের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ছবি তুলে তার নিয়ন্ত্রণকারীর কাছে পাঠিয়েছিলেন। পাশাপাশি ইসরায়েলি বিরোধীদলীয় নেতা বেনি গান্তজের বাসস্থানের আশপাশের এলাকার ছবিও তিনি পাঠান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শুধু তথ্য সংগ্রহ বা ছবি পাঠানোর মধ্যেই তার কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ ছিল না বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। নয়টি গাড়িতে আগুন দেওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে গ্রাফিতি আঁকার অভিযোগেও গ্রানোভস্কিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে—এমন অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা ব্যক্তিদের একটি দলে যুক্ত করার কাজেও তাকে সহায়তা করতে বলা হয়েছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, গ্রানোভস্কি আরও বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে প্রস্তুত ছিলেন। তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নাকি বলেছিলেন, হত্যা করা ছাড়া অন্য যেকোনো কাজ করতে তিনি রাজি ছিলেন। তার এই বক্তব্যও মামলার তদন্তে গুরুত্ব পেয়েছে।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থের বিনিময়ে ইরানি অপারেটিভদের হয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ বা মিশন পরিচালনার অভিযোগে দেশটির বেশ কয়েকজন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব মামলায় ইরানের গোয়েন্দা তৎপরতার জন্য ইসরায়েলি নাগরিকদের ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি নাগরিকদের ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার ও বিচারের ঘটনা দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গ্রানোভস্কির মামলায় আদালতের রায়ও সেই প্রেক্ষাপটেই গুরুত্বপূর্ণ। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে বিদেশি গোয়েন্দা কর্মকর্তার হয়ে কাজ করা, সংবেদনশীল স্থাপনা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বাসস্থানের ছবি সংগ্রহ, অগ্নিসংযোগ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে আদালতের রায়ে যে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে, সেগুলোর ভিত্তিতেই তাকে সাড়ে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থের বিনিময়ে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করার অভিযোগে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও কয়েকটি তদন্ত ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে।