ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ইরানের দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শনিবার টেনেসির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এ কথা জানান।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি।...আমি তাদের চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছি।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ইরান দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য একটি চুক্তি করতে চায়। তাঁর ভাষ্য, ‘তারা হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেওয়ার জন্য একটি চুক্তি করতে চায়। কারণ, তারা ভয়াবহভাবে হারছে।...আমরা দারুণভাবে জিতছি।’
সাত দিনের মধ্যে সংঘাত বন্ধের প্রস্তাব
যুদ্ধ বন্ধে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা তুলেছিল ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছে।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, এর মাধ্যমে কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালি আবার চালু হতে পারে এবং সাত দিনের মধ্যে সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে।
তবে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি ট্রাম্প।
তিনি আরও বলেন, ‘তারা চুক্তি করতে চায়। আমিও চুক্তি করতে চাই।’ ট্রাম্পের দাবি, ইরানের মূল লক্ষ্য দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া। তাঁর ভাষ্য, ইরানের অর্থের প্রয়োজন এবং দেশটি হরমুজ প্রণালি থেকেই অর্থ পায়।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমেছে
বর্তমানে ইরানের নৌবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যকর রয়েছে। তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলতেই ওয়াশিংটন এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানও তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হতে দিচ্ছে না। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
এ পরিস্থিতির মধ্যেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই রয়েছে।
ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের খবর আগে প্রকাশ করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ট্রাম্পের ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের খবর প্রকাশ করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছিল, ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে সন্দিহান যে ইরান তাঁর দাবিগুলো পূরণ করবে কি না।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছিল, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে বোমা হামলা শুরু হতে পারে—এমন কথাও ট্রাম্প তাঁর কর্মীদের জানিয়েছেন।
তবে এর আগে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ আলোচনা হয়েছে।
ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সেই কূটনৈতিক উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।