ইসরায়েল-মরক্কো সম্পর্ক জোরদারে দূতাবাস ও রাষ্ট্রদূত নিয়োগ

Pinky Saha Pinky Saha ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:২৩ PM BST ২৯ বার পঠিত
ইসরায়েল-মরক্কো সম্পর্ক জোরদারে দূতাবাস ও রাষ্ট্রদূত নিয়োগ

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে একাধিক পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়েছে মরক্কো। এর অংশ হিসেবে দুই দেশের কূটনৈতিক মিশনের মর্যাদা পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসে উন্নীত করা এবং উভয় দেশে রাষ্ট্রদূত নিয়োগের বিষয়ে একমত হয়েছে দেশ দুটি। বুধবার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার, মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বুরিতা এবং জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ অংশ নেন। বৈঠকে ইসরায়েল-মরক্কো সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়।

দুই দেশের কূটনৈতিক মিশনকে দূতাবাস পর্যায়ে উন্নীত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রদূত নিয়োগের সিদ্ধান্তকে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া চার আরব দেশের একটি ছিল মরক্কো। অন্য তিনটি দেশ হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও সুদান।

নিউইয়র্কের বৈঠকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। দুই দেশ ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং দ্বৈত কর এড়ানোর বিষয়ে দুটি চুক্তির কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এসব চুক্তি দুই দেশের পারস্পরিক বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা সহজ করার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া ইসরায়েল ও মরক্কোর মধ্যে বিমান চলাচল বাড়ানোর বিষয়েও ঐকমত্য হয়েছে। দুই দেশের বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালিত সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের পারস্পরিক সফরের পরিকল্পনাও রয়েছে।

২০২০ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পর মরক্কোর সঙ্গে তেলআবিবের যোগাযোগ বাড়তে থাকে। এর আগে মিসর ও জর্দান ইসরায়েলের সঙ্গে পৃথক শান্তিচুক্তি করলেও ২০২০ সালের চুক্তিগুলো কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের নতুন পর্যায় তৈরি করে।

ইসরায়েল ও মরক্কোর নতুন উদ্যোগের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিমান যোগাযোগ ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। তবে ফিলিস্তিন প্রশ্নে আরব বিশ্বের দীর্ঘদিনের অবস্থানের সঙ্গে এই সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ নিয়ে অতীতে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। ওই অবস্থানে ইসরায়েলের দখলকৃত ভূখণ্ড থেকে সরে যাওয়া এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিনিময়ে আরব দেশগুলোর সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কের কথা বলা হয়েছিল।

নিউইয়র্কের বৈঠকের মাধ্যমে ইসরায়েল ও মরক্কোর সম্পর্ক এখন পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্বের দিকে আরও এগিয়ে গেল। দূতাবাস ও রাষ্ট্রদূত নিয়োগের পাশাপাশি সরাসরি বিমান যোগাযোগ এবং নতুন অর্থনৈতিক চুক্তিগুলো বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পরিধি আরও বাড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: