Photo Collected
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ইরানকে নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবারের ভাষণে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ইরানের সঙ্গে চুক্তি করা অথবা ইসলামিক রিপাবলিককে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত রয়েছে।
ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার অভিযানের পর দেশটির তেলসম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বড় চুক্তি হয়েছে। এর আওতায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি তেলসম্পদে মার্কিন প্রবেশাধিকার বা নিয়ন্ত্রণের কথা তিনি উল্লেখ করেন।
ভেনেজুয়েলার তেলচুক্তি সম্পর্কে ট্রাম্প এটিকে বড় ধরনের জ্বালানি চুক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং দাবি করেছেন, এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম কমতে পারে। তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিটি ভেনেজুয়েলার সব তেলসম্পদের মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিয়েছে—এমন তথ্য নিশ্চিত হয়নি; বরং বিপুল তেলসম্পদে মার্কিন প্রবেশাধিকার ও নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে।
জাতিসংঘের মঞ্চে ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে। তাঁর ভাষণে পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা ও ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক অভিযানের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে।
ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল আরও কঠোর। তিনি বলেন, চুক্তি না হলে ইসলামিক রিপাবলিককে ‘annihilate’ করার সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ঠেকাতেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ প্রয়োজন হয়েছিল।
ভাষণে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সমালোচনাও করেন। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করে সদস্যদেশগুলোকে আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক কাঠামোর বিরুদ্ধেও অবস্থান জানান তিনি।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে বিশ্বনেতাদের আলোচনা চলছে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ বিতর্ক ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।