Photo Collected
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের প্রভাবে কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছে। গত এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই সংকটের কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে গেছে বলে রয়টার্সের এক হিসাব থেকে জানা গেছে।
রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে কাতার যেখানে ৫০৯টি এলএনজি কার্গো পাঠিয়েছিল, চলতি বছরের আগস্টের শেষ পর্যন্ত সেখানে তারা মাত্র ১৮টি কার্গো পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশটির এলএনজি রপ্তানিতে প্রায় ৯৬ শতাংশ পতন ঘটেছে।
এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে কাতার এনার্জির ক্রেতাদের ওপরও। ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এডিসন জানিয়েছে, কাতার এনার্জি তাদের আরও ছয়টি এলএনজি কার্গো বাতিল করেছে। এর ফলে কাতার থেকে সরবরাহ না পাওয়া এডিসনের মোট চালানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫টিতে।
ইতালির মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ করে এডিসন। কাতার এনার্জির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিও রয়েছে। ২০০৯ সালে করা ওই চুক্তির মেয়াদ ২৫ বছর।
সরবরাহ সংকটের কারণে চাহিদা মেটাতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীদের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে এডিসনকে। কাতারের এলএনজি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় ইউরোপের জ্বালানি বাজারে বিকল্প উৎসের গুরুত্বও বাড়ছে।
এদিকে সামনে শীত মৌসুম। এই সময়ে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সীমিত বৈশ্বিক প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ নিয়ে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে গ্যাসের বাজারে সরবরাহ ও দামের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইতোমধ্যে জার্মানিসহ ইউরোপের একাধিক দেশ শীত মৌসুমের আগে নিজেদের গ্যাসের মজুদ দ্রুত পূরণ করার উদ্যোগ নিয়েছে। সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় দেশগুলো বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহের দিকেও নজর দিচ্ছে।
তবে কাতার এনার্জির এলএনজি সরবরাহে এই ব্যাঘাত এবং কার্গো বাতিলের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। শীত সামনে রেখে বৈশ্বিক গ্যাসের বাজারে কাতারের সরবরাহ পরিস্থিতি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।