Photo Collected
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের গোপন কোনো ছেলে আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস)। গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, কিমের কোনো বড় ছেলে আছে কি না, সে বিষয়ে তথ্য যাচাইয়ের চেষ্টা চলছে।
২০১১ সালে বাবা কিম জং ইলের মৃত্যুর পর উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় আসেন কিম জং-উন। দীর্ঘদিন ধরে দেশটির সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও এনআইএসের সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, কিমের পর সম্ভবত তাঁর মেয়ে কিম জু এ-ই দেশের নেতৃত্বে আসতে পারেন। ধারণা করা হয়, কিম জু এ-এর বয়স বর্তমানে প্রায় ১৩ বছর।
তবে কিম জু এ-এর কোনো বড় ভাই আছে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা। এনআইএস জানিয়েছে, কিমের কোনো ছেলেসন্তান থাকলেও সে উত্তরাধিকারী হওয়ার অবস্থানে আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এ ছাড়া কিমের আরও একটি ছোট সন্তান রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে ওই সন্তান ছেলে নাকি মেয়ে, সেটিও নিশ্চিত নয়।
কিম জং-উনের সন্তানদের বিষয়ে তথ্য বরাবরই অত্যন্ত গোপনীয়। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমেও কিমের পারিবারিক জীবন সম্পর্কে খুব সীমিত তথ্য প্রকাশ করা হয়। ফলে তাঁর সন্তানদের সংখ্যা, বয়স ও লিঙ্গ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা জল্পনা রয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার এক আইনপ্রণেতা জানিয়েছিলেন, সংসদীয় কমিটিকে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে এনআইএস কিম জু এ-এর একজন বড় ভাই থাকার কথা জানিয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে গোয়েন্দা সংস্থাটি স্পষ্ট করে জানায়, কিমের ছেলে আছে—এমন প্রতিবেদন তারা এখনো যাচাই করে দেখছে।
কিমের কোনো ছেলে আছে কি না, তা উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পুরুষতান্ত্রিকতার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। ১৯৪৮ সালে উত্তর কোরিয়া প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বে থাকা তিন ব্যক্তিই কিম পরিবারের পুরুষ সদস্য—কিম ইল-সুং, কিম জং-ইল এবং কিম জং-উন।
এ কারণে কিম জু এ-কে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সামনে আনার বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মধ্যে সংশয় রয়েছে। তাঁদের মতে, উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাধর শীর্ষ কর্মকর্তারা একজন নারীর নেতৃত্ব কতটা সহজভাবে মেনে নেবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তবে কিম জু এ ইতোমধ্যে বাবার সঙ্গে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে উপস্থিত হয়েছেন। এসব উপস্থিতিকে তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক।
আরেকটি বিষয় নিয়েও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। কিম জু এ শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় এলেও তাঁর উত্তরসূরি যদি তাঁর নিজের সন্তান হন, তাহলে ভবিষ্যতে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতা কিম পরিবারের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তিনি বিয়ে করলে এবং তাঁর সন্তান পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হলে কিম পরিবারের সরাসরি রক্তধারার নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে এসবই এখন পর্যন্ত সম্ভাবনা ও বিশ্লেষণের পর্যায়ে রয়েছে। কিম জং-উনের কোনো ছেলে আছে কি না, কিম জু এ-ই তাঁর নিশ্চিত উত্তরসূরি কি না—এসব প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক ও নিশ্চিত উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার চলমান মূল্যায়নই আপাতত উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।