Photo Collected
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাটে পুলিশ সদর দপ্তরের কাছে একটি মসজিদে ভয়াবহ বোমা হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫০ জনের বেশি।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের সময় পুরোনো পুলিশ লাইনস এলাকার কাছে এই আত্মঘাতী ও সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা ও জিও নিউজের প্রতিবেদনে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
কোহাটের জেলা সদর হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান, হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে ১৬টি মরদেহ এবং ৫০ জনের বেশি আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হামলার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়।
খাইবার পাখতুনখাওয়ার পুলিশপ্রধান জুলফিকার হামিদ জানান, বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি পুরোনো পুলিশ লাইনসের প্রধান ফটকে জোর করে ধাক্কা দেওয়ার পর বিস্ফোরণ ঘটে।
প্রথম বিস্ফোরণের পরপরই এলাকায় হামলাকারীদের সঙ্গে পুলিশের তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। এ সময় স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের কাছাকাছি আরও একটি পৃথক আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানান পুলিশপ্রধান।
পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের সময় তাৎক্ষণিকভাবে তিন হামলাকারী নিহত হয়েছে বলেও জানান জুলফিকার হামিদ। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো সন্ত্রাসী বা চরমপন্থী গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি।
প্রাদেশিক পুলিশপ্রধান হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা খাইবার পাখতুনখাওয়া পুলিশের মনোবল ভেঙে দিতে পারবে না এবং হামলাকারী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, শক্তিশালী বিস্ফোরণে মসজিদের বাইরের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মসজিদের একটি সীমানা দেয়ালও ধসে পড়েছে। হামলার পর উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে কোহাট-হাঙ্গু প্রধান সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পুরো কোহাট জেলাজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এদিকে হামলার ঘটনায় কোহাটের আঞ্চলিক পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছে কেন্দ্রীয় পুলিশ কার্যালয়। বিস্ফোরণের ধরন, হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং কীভাবে হামলাকারীরা এলাকায় প্রবেশ করেছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
হামলার পর কোহাটজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসা এবং ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।