ছবি: সংগৃহীত
মালিতে সেনাবাহিনী ও রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আধাসামরিক বাহিনী ওয়াগনারের বিরুদ্ধে বেসামরিক মানুষ হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, যৌথ সামরিক অভিযানের সময় এসব ঘটনা ঘটেছে।
অ্যামনেস্টি এসব ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সেগু, মপতি ও তিম্বুকতু অঞ্চলের সাতটি এলাকায় অন্তত ৩৪ জন বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত করেছে তারা।
সংস্থাটির দাবি, নিহতদের কেউই মৃত্যুর সময় কোনো সংঘাতে অংশ নিচ্ছিলেন না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজনকে পালানোর সময় অথবা গ্রেপ্তারের পর গুলি করে হত্যা করা হয়।
এ ছাড়া কয়েকজনের গলা কেটে দেওয়া এবং অন্যদের জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগও তুলেছে অ্যামনেস্টি। তিম্বুকতু অঞ্চলের টিন আদান্ডা গ্রামের একটি ঘটনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অ্যামনেস্টির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মালির সেনাবাহিনী ও ওয়াগনারের যৌথ টহলের সময় টিন আদান্ডা গ্রামে চারজনকে হত্যা করা হয়। একই বছরের মার্চ ও নভেম্বরে ওই এলাকায় দুটি ড্রোন হামলার ঘটনাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
এসব ড্রোন হামলায় অন্তত ২৩ জন নিহত হন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। নিহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন শিশু ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু হত্যাকাণ্ড নয়, যৌথ টহল এবং লেরে ও নামপালা সামরিক ঘাঁটিতে আটক ব্যক্তিদের নির্যাতনের অভিযোগও তুলেছে অ্যামনেস্টি। সংস্থাটি জানিয়েছে, নির্যাতনের শিকার হওয়া ১৫ জন পুরুষের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, টহল ও সামরিক ঘাঁটিতে অন্তত ৩০ জনকে নির্যাতন বা অন্য ধরনের দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়েছে।
এ ছাড়া সামরিক ঘাঁটিতে নির্যাতন ও খারাপ পরিবেশের কারণে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলেও সাক্ষ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাটি।
অ্যামনেস্টির মতে, নিহত ও নির্যাতনের শিকার বেশিরভাগ মানুষ ছিলেন ফুলানি, আরব ও তুয়ারেগ পশুপালক সম্প্রদায়ের। সংস্থাটির দাবি, কিছু মানুষকে শুধু জাতিগত পরিচয় এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয় এলাকায় বসবাসের কারণে এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহ করা হয়েছে।
মালিতে সেনাবাহিনী ও রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও দেশটির সামরিক বাহিনী ও রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর বিরুদ্ধে বেসামরিক মানুষ হত্যার অভিযোগ তুলেছে।
এপ্রিল মাসে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস (এফআইডিএইচ)সহ তিনটি নাগরিক সংগঠন মালির সেনাবাহিনী ও ওয়াগনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আফ্রিকান ইউনিয়নের মানবাধিকার আদালতে মামলা করে।
২০২০ ও ২০২১ সালে দুটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মালির জান্তা সরকার ক্ষমতায় আসে। এরপর জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রাশিয়ার সহায়তা নেয় দেশটি। ওই সময় মালিতে রাশিয়ার ওয়াগনার বাহিনীকে কাজে লাগানো হয়। পরে এই বাহিনী ‘আফ্রিকা কর্পস’ নামে পরিচিতি পায়।
অ্যামনেস্টির সর্বশেষ প্রতিবেদনে ওঠা অভিযোগগুলো মালিতে সামরিক অভিযান, বেসামরিক নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে আরও যাচাইয়ের বিষয় রয়েছে।