ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কাছে পাঠানো চিঠির উদ্দেশ্য শুধু গণমাধ্যমে প্রচার নয়, বরং ইরানের অবস্থান ও যুক্তি সরাসরি তুলে ধরা—এমনটাই জানিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এ কথা বলেন।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি পোস্ট দিয়ে সাময়িক প্রচারণা চালানোর পরিবর্তে মার্কিন জনগণের সঙ্গে ‘সৎ, যৌক্তিক ও বাস্তব’ উপায়ে কথা বলতেই চিঠিকে মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে তেহরান।
মোহেব্বির দাবি, অনেক মার্কিন নাগরিক ইরানের অবস্থান ও যুক্তি সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত নন। তাই সরাসরি তাদের কাছে নিজেদের বক্তব্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আইআরজিসির এই মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে শত শত টেলিভিশন ও রেডিও নেটওয়ার্ক থাকলেও মার্কিন ভূখণ্ডে ইরানের নিজস্ব বিস্তৃত গণমাধ্যম নেটওয়ার্ক নেই। এ কারণে নিজেদের বক্তব্য সরাসরি ও স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে চিঠিকে উপযুক্ত মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
চিঠিটি পড়ার পর কোনো মার্কিন নাগরিক মতামত, সমালোচনা বা ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তাদের সঙ্গে চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ করতেও ইরান আগ্রহী বলে জানিয়েছেন মোহেব্বি। এ ধরনের যোগাযোগের জন্য একটি ঠিকানাও গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক অবস্থান ও দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান আইআরজিসির মুখপাত্র। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মহাসাগরবেষ্টিত যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক অবস্থান দেশটিকে একটি প্রাকৃতিক নিরাপত্তা সুবিধা দেয়।
এ প্রসঙ্গে মোহেব্বি প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আশপাশের দেশগুলোর কেউ বড় ধরনের সামরিক ও নিরাপত্তা হুমকি তৈরি না করলেও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৮০০টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রাখার প্রয়োজন কেন। একই সঙ্গে ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সামরিক বাজেটের অর্থনৈতিক ও যৌক্তিক ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এসব সংখ্যা ও প্রশ্ন তাঁর বক্তব্যের অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
এ ছাড়া গত সাত দশকে বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের ইতিহাসও মার্কিন জনগণের বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন মোহেব্বি। তিনি মার্কিন গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা এবং সেসবের দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি নিয়ে আলোচনা করার আহ্বান জানান।
মোহেব্বির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। একই দিনে রয়টার্সের প্রতিবেদনে আইআরজিসির এই মুখপাত্রের যুক্তরাষ্ট্রের নীতির বিরুদ্ধে আরও কিছু অভিযোগ ও বক্তব্যের কথাও উঠে এসেছে।
সব মিলিয়ে, মার্কিন জনগণের কাছে পাঠানো চিঠির মাধ্যমে ইরান সরাসরি নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে চাইছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি। তবে চিঠিতে উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি ও প্রশ্ন মূলত ইরানের পক্ষের বক্তব্য—এগুলোকে স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা তথ্য হিসেবে নয়, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।