মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান ব্রিকসের

Pinky Saha Pinky Saha ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৩৯ PM BST ২৭ বার পঠিত
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান ব্রিকসের

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে ব্রিকসের ১১ সদস্য দেশ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের প্রথম দিনে চীন, রাশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সদস্য দেশগুলো যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায়।

বিবৃতিতে সংঘাত আরও বাড়তে পারে—এমন যেকোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং বাণিজ্য, জ্বালানি ও নৌ চলাচলের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্রিকস বলেছে, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। তাই পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে এমন পদক্ষেপ এড়িয়ে সংযম দেখানো জরুরি।

পারমাণবিক স্থাপনায় হামলারও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ব্রিকস। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকা পারমাণবিক স্থাপনায় হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে সদস্য দেশগুলো। যুদ্ধের সময়ও পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে মানুষের জীবন ও পরিবেশ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।

যৌথ বিবৃতিতে গাজা, লেবানন, সুদান ও সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ব্রিকস।

ব্রিকসের এবারের যৌথ অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এর আগে মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তীব্র মতপার্থক্যের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। এবার সেই মতপার্থক্য সত্ত্বেও একটি অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছে জোটটি।

সম্মেলন ঘিরে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার মতপার্থক্য কমাতেও কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকসের এই যৌথ অবস্থান তাৎক্ষণিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেবে—এমন সম্ভাবনা কম। তবে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সদস্য দেশগুলোর আলোচনা চালিয়ে যাওয়া এবং সমন্বিত অবস্থান তুলে ধরার আগ্রহের বিষয়টি এতে স্পষ্ট হয়েছে।

ভারতে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক রাষ্ট্রদূত সুনজয় সুধীরের মতে, যুদ্ধ বন্ধের মূল চাবিকাঠি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হাতে। তবে তাঁর ভাষ্য, ভারত এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো একই টেবিলে বসে কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: