collected
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রিকস জোটকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। শনিবার ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থের পরিপন্থী। শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রিকসের অন্যান্য সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে চীন কাজ করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
সি চিন পিং ব্রিকসকে ‘গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্বদানকারী জোট’ হিসেবে উল্লেখ করে উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে আত্মনির্ভরতার মডেল হিসেবে এর ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে উদ্ভাবননির্ভর উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে জোটটির আরও কাজ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন। আগামী বছর চীন ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব নেবে এবং ১৯তম ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজন করবে বলেও জানান তিনি।
সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন সি চিন পিং। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট ভারত-চীন সম্পর্ককে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার কথা জানান। দুই দেশ একে অপরের শক্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে অভিন্ন উন্নয়নের পথে এগোতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দীর্ঘ সাত বছর পর সি চিন পিংয়ের নয়াদিল্লি সফর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতিতে নতুন গতি আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের অগ্রগতির স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়নি।
ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে ২০০৯ সালে ব্রিকসের যাত্রা শুরু হয়। পরে মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরও কয়েকটি দেশ জোটটিতে যুক্ত হয়। বর্তমানে ব্রিকস সদস্যদেশগুলোর সম্মিলিত জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও তাদের উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে।
চীন ও ভারতের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ১৯৬২ সালের সীমান্ত যুদ্ধের পর দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল। ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষে উভয় দেশের সেনা নিহত হওয়ার পর সম্পর্ক আরও অবনতি ঘটে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কিছু উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে।