Photo Collected
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে ফের সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কামজং জেলার পিলং এলাকায় সশস্ত্র হামলায় চারজন টাংখুল নাগা নাগরিক নিহত হয়েছেন। একই সময়ে পার্শ্ববর্তী কাংপোকপি জেলার তিনটি গ্রামে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্তত ৪১টি বাড়ি এবং একটি গির্জাসহ কয়েকটি স্থাপনা পুড়িয়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পিলং এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিরা গ্রামবাসীদের ওপর গুলি চালায়। এতে চারজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বাবা-ছেলেও রয়েছেন। তারা হলেন ফামি জাজো, তাঁর বাবা ভারেইশিম জাজো, বেটারসন জাজো এবং নিংথেম কাশাক। হামলাকারীরা সীমান্তের ওপার থেকে আসতে পারে বলে পুলিশের ধারণা। তবে হামলাকারীদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্ত চলছে।
নিহতদের মরদেহ শুক্রবার ভোরে পিলং গ্রামের একটি নির্জন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহগুলোতে একাধিক গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলটি কামজং জেলা সদর থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দূরে এবং ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি।
এদিকে কাংপোকপি জেলার মাকুই চাম্রিউপিউ, মাকুই থানাম্বা ও মাকুই থেব্রাম গ্রামে ২৩ সেপ্টেম্বর দুপুর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ভোর পর্যন্ত প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে সহিংসতা চলে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এসব ঘটনায় ১৭টি, ৮টি ও ১৬টি—মোট ৪১টি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একটি গির্জা ও অন্যান্য সরকারি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, হামলাগুলো কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা চালিয়েছে। তবে এই অভিযোগ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে নিরাপত্তার কারণে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। হামলার সময় হতাহতের বিষয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া গেছে; স্থানীয় কিছু সূত্র প্রাণহানির দাবি করলেও সরকারি সূত্র তা নিশ্চিত করেনি।
এ ছাড়া তামেই মহকুমার লাসানে ওয়াকোটফাই এলাকায় পাওজাঙ্গাম চংলোই নামে এক ব্যক্তির হত্যার ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তামেইয়ের বিধায়ক এ. ওয়াংবাউ নিউমাই সাম্প্রতিক এসব সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে সব সম্প্রদায়কে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিংও চার নাগা নাগরিক হত্যার নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের সহিংসতার সমাজে কোনো স্থান নেই এবং সরকার তা সহ্য করবে না।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে জাতিগত সংঘাত ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে কামজং ও কাংপোকপিতে হামলার ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।